আজ ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১১ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

নতুন পথে পাচার এশিয়ার মাদক: জাতিসংঘ

  • In আন্তর্জাতিক
  • পোস্ট টাইমঃ ৩ জুন ২০২৩ @ ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৩ জুন ২০২৩@১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
নতুন পথে পাচার এশিয়ার মাদক: জাতিসংঘ

।। ইন্টারন্যাশনাল ডেক্স ।।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি দামের ক্রেতার কাছে মাদক পৌঁছাতে পাচারকারীরা নতুন পথ খুঁজে নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এসব পাচারকারীরা মূলত আইস না ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন মাদক বিক্রি করে থাকে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন বলছে, চীন ও থাইল্যান্ডে স্থলপথের টহল এড়াতে পাচারকারীরা সমুদ্র পথে বেশি মাদক পাঠাচ্ছে, এতে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক কার্যালয় বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের ‘অনুমান করা, মানিয়ে নেয়া এবং বাধা দেয়া’ শিখে নিয়েছে পাচারকারীরা।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডেও বিক্রি হয় আইস। মেথামফেটামিন এবং অন্য অবৈধ মাদক মূলত মিয়ানমারের কয়েকটি এলাকার সুপার ল্যাব থেকে বের হয়। জাতিসংঘ বলছে, এসব ল্যাব থেকে মাদকের প্রবাহ কমার কোনো চিহ্ন নেই।

অনেকেই বিশ্বাস করেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেথ বাণিজ্য চলে মিয়ানমারের শান রাজ্যে। পাচারকারীরা জাহাজে করে মাদক লাওস, কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে পাচার করে। পাচারের এই রুটটি গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গাল নামে পরিচিত।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক কার্যালয়ের প্রতিনিধি জেরেমি ডগলাস বলেন, ’২০২২ সালে আমরা থাই সীমান্তে তাদের (পাচারকারীদের) অতীতের চেয়ে বেশি সক্রিয় থাকতে দেখেছি। পাচারকারীরা বড় আকারের চালান লাওস এবং থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল দিয়ে পরিবহন অব্যাহত রেখেছে, কিন্তু একই সময়ে তারা মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চল দিয়ে আন্দামান সাগর দিয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক পাচার করেছে, এই এলাকায় নজরদারি অপেক্ষাকৃত কম হিসেবে দেখা হয়।

মেথ মূলত দুই ধরনের: বড়ি আকারে হয় ইয়াবা কিংবা অতি আসক্তির ক্রিস্টাল মেথ (আইস)। গত কয়েক বছর থাই এবং চীন উভয় দেশের পুলিশ প্রতিবেশি দেশগুলোর সহায়তায় গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গালে মাদকবিরোধী অভিযান জোরালো করেছে।
অস্ট্রেলিয়া কিংবা ‍নিউজিল্যান্ডের মতো তৃতীয় দেশে উচ্চ মূল্যে ক্রিস্টাল মেথ বিক্রি করতে অপরাধী চক্র থাইল্যান্ডকে ট্রানজিট দেশ হিসেবে ব্যবহার করে। ব্যাংককে যে দামে মাদক বিক্রি হয় তার চেয়ে দশগুণ বেশি দামে তা অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডের রাস্তায় বিক্রি হয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে মাদকের বড় বড় চালান বাংলাদেশ এবং ভারত হয়েও পাচার হয়।

গত বছর থাইল্যান্ড ও চীনা কর্তৃপক্ষের মাদক উদ্ধারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে গেছে। পূর্ব এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পুলিশ ২০২২ সালে প্রায় ১৫১ টন মেথামফেটামিন জব্দ করে। অথচ ২০২১ সালে তাদের উদ্ধারের পরিমাণ ছিল ১৭২ টন। প্রতিকেজি ক্রিস্টাল মেথের দাম এখন সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এথেকে বোঝা যায় মাদকের সরবরাহ এখন খুবই ভালো।

কর্মকর্তাদের বিশ্বাস অপরাধী চক্র তাদের নেটওয়ার্ক ‘বিস্তৃত’ করার পথ ‍খুঁজে নিয়েছে এবং বিকল্প সমুদ্র পথে তারা মাদক পাচার করছে। থাই কর্তৃপক্ষ সমুদ্র পথের চালানের বেশ কিছু অংশ জব্দ করেছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে চার মাস ধরে চলা অভিযান শেষে গত সপ্তাহে থাই কর্তৃপক্ষ জানায় থাই উপকূল থেকে নয়শ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বহনকারী একটি ট্রলার আটক করা হয়েছে। ওই অভিযানে ট্রলারের আট কর্মীকেও আটক করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছোট একটি থাই নৌকা থেকে ওই ক্রিস্টাল মেথ একটি বড় ট্রলারে তুলে অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছিলো।

এসআর/তারিখ:০৩০৬২৩/১০:৪৬

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights