শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় কুতুবুল আলম প্রকাশ গুরামিয়া (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৭ নভেম্বর) ঝিলংজার ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ খরুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমে চরপাড়া সড়কের মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গুরামিয়া ওই এলাকার মৃত মাষ্টার গোলাম শরিফের ছেলে। এবং মৌলানা আবুল কালামের ভাই।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি রকিবুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের ভাতিজা সাইমুন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন থেকে আমার চাচা মাহবুবুল আলম তাঁর কিছু জমি বিক্রি করেছেন বলে শুনেছি। সোমবার ভোররাতে আমাদের দলীয় জমিগুলো দখল করে টিনের ঘেরা দেন চরপাড়া এলাকার শফিউল আলম গংরা। পরে ফজরের নামাজ পড়তে বের হলে বিষয় আমাদের নজড়ে পড়ে। এ সময় সবাই জমিতে গেলে শফিউল আলম ও তার বোন জামাই কবিরসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ দশীয় অস্ত্র, দা, লাঠি নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আমাদেরকে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় চাচা গুরা মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ জানান, নিহত গুরা মিয়ার ভাইয়ের কাছ থেকে কিছু জমি ক্রয় করেছেন শফিউল আলম গংরা। যে দাগ থেকে জমি ক্রয় করেছেন সেটির বাইরে গিয়ে অন্যান্য ওয়ারিশের জমি গভীর রাতে দখল করেছেন বলে শুনেছি। পরে তাঁরা বাঁধা দিতে গেলে তাঁদের উপর হামলা চালায় শফিউল আলমসহ তাঁর লোকজন। হামলায় গুলামিয়ার মৃত্যু হয়।
এলাকাবাসী জানান, ওই গ্রামের মাহবুব আলমের কাছ থেকে শফিউল আলম জমি ক্রয় করার কারণে মাহবুবুবের অপারাপর ভাইদের সঙ্গে শফিউলমের দীর্ঘদিন ধরে নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। সোমবার রাতে বিরোধপূর্ণ জমিতে টিনের ঘেরা দিয়ে দখল করেন। সকালে সেখানে দেখতে গেলে অস্ত্র দিয়ে তাঁর উপর আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই গুরা মিয়া গুরুতর আহত হন।
এলাকাবাসী আরও জানান, খবর পেয়ে গুরা মিয়ার স্বজনরা এলে প্রতিপক্ষরা তাদেরকেও মারধর করেন। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন কয়েকজন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে জের ধরে গুরা মিয়া নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। লাশ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এঘটনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। অভিযুক্তদের ধরতে আরোও একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।






















