আজ ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১০ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

বাহারি রঙ্গিন মাছ চাষে স্বাবলম্বী কুড়িগ্রামের অনেক বেকার

বাহারি রঙ্গিন মাছ চাষে স্বাবলম্বী কুড়িগ্রামের অনেক বেকার

।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।

একুরিয়ামের বাহারি মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার ঘটনা ঘটেছে অনেক। এবার সেই বাহারি মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক সাধারণ মানুষ। কুড়িগ্রাম জেলায় এ প্রথম মিঠা পানিতে চাষ হচ্ছে এ্যাকুরিয়ামের বাহারি রঙের মাছ। পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র আর্থিক সহায়তায় আরডিআরএস বাংলাদেশ জেলার রাজারহাট ও সদর উপজেলায় পরীক্ষামুলকভাবে রঙিন মাছ চাষে সাফল্য পাওয়ায় জেলায় সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্যোক্তা। সেই সাথে বেকার তরুণদের জন্য সুযোগ হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের।

সরজিমেনে জেলার সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর প্রতাপ গ্রামের মাছ চাষি খলিলুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার ৪ শতক জমিতে এক শতক করে ৪ টি আলাদা পুকুরে চাষ করছেন ১০ রকমের বাহারী রঙের ডিমওয়ালা মা মাছ। গত ১৪মে তিনি পুকুরে মা মাছ ছেড়েছিলেন। সব মিলিয়ে এতে তার খরচ হয়েছে ১২হাজার টাকা। উত্তোলনকৃত পোনা মাছ বিক্রি করতে পারবেন ৪০ হাজার টাকা। ফলে খুশি এ মৎসচাষি। খলিলুর রহমান জানান, আরডিআরএস’র মাধ্যমে খুলনা ও যশোর থেকে আমাকে ৪শ’ পিস ডিমওয়ালা মা মাছ সরবরাহ করা হয়। এজন্য আমাকে দুই দিনের বাহারী রঙিন মা মাছ চাষের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ৪শ’ মা মাছ কিনতে খরচ পরেছে ৮হাজার ৫শ’ টাকা। ফেন্সিং নেট দিতে ২ হাজার টাকা। এছাড়াও ট্রেনিং, সাইনবোর্ড ও এক বস্তা ফিড কিনতে খরচ হয়েছে সাড়ে ৪হাজার টাকা। আমি ১০ প্রকার মা মাছ ছেড়েছি। এখন পর্যন্ত ৬ প্রকার ডিমওয়ালা মা মাছ প্রায় ২ হাজার রেণু ছেড়েছে। বাকীগুলো থেকেও আশা করছি। এতে আমি প্রথম দফায় ৪০হাজার টাকার পোনা মাছ বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি

আরডিআরএস রাজারহাটের টেকনিক্যাল অফিসার (ফিসারিজ) মোজাম্মেল হক জানান- কুড়িগ্রাম জেলায় এ প্রথম নতুন কার্যক্রম ও উদ্যোক্তা তৈরীতে বাহারী মাছ চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা রাজারহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে বাজারজাতকরণেরও ব্যবস্থা করেছি। দুজন চাষিকে এখন পর্যন্ত ১২প্রকার মাছ সরবরাহ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- গাপ্পী, মলি, সরটেইল, প্লাটি, গোল্ড ফিস, কৈ-কার্প, কমেট, গোড়ামি, খলিষা, ব্লাকমোড়, টেট্টাবার্গ ও টাইগার বার্গ। তিনমাস পরপর এ ডিমওয়ালা মা মাছগুলো বাচ্চা দিবে ফলে তারা প্রতিনিয়ত মাছগুলো বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কালিপদ রায় জানান- কুড়িগ্রামে নতুন প্রযুক্তিতে বাহারি মাছ চাষের প্রচলন শুরু হয়েছে। এতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ বাহারি মাছ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শোভাবর্ধন করছে। এ মাছ চাষের মাধ্যমে জেলায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরীর পাশাপাশি বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights