আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

বাবুই পাখির বাসাঃ কালের বিবর্তনে হারিয়ে এখন স্মৃতি

বাবুই পাখির বাসাঃ কালের বিবর্তনে হারিয়ে এখন স্মৃতি

।।বিশেষ প্রতিবেদক।।

কবি রজনীকান্ত সেনের সুরে-

বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই,

কুঁড়ে ঘরে থেকে করে শিল্পের বড়াই,

আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে

তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।।

এই কবিতা এখনো মনে দোলা দিলেও চোখে পড়ে না বাবুই পাখির নিজে গড়া শৈল্পিক কারুকাজে সজ্জিত সেই বাসা এখন আর চোখে পড়েনা। কালের বিবর্তন আর বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে হারিয়ে গেছে সেই ঐতিহাসিক বাবুই পাখির বাসা ও তার শিল্পকর্ম।

যেখানে সর্বদা বাবুই পাখির কলতানে মুখরিত ছিলো গ্রাম গুলো তালগাছ বা লম্বা সব গাছ নিধনের ফলে বাসা হারিয়ে ফেলেছে তাতি শিল্পী পাখি বাবুই। একটা সময় গ্রাম-বাংলার মাঠের ধারে, পুকুর পাড়ে কিংবা মাঠের পাড়ে দেখা মিলতো সারি সারি তালগাছের। সেখানে সাদা চঞ্চল নিষ্ঠাবান বুনন শিল্পী বাবুই পাখির বাসাও কারো নজর এড়াতো না। সেই তালগাছ আর বাবুই পাখির বাসা দুটোই আজ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলা থেকে। তেমনি হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাকৃতিক শিল্পী পাখির ভোরবেলা কিচিরমিচির মধুর সুরে ডাকাডাকি আর উড়াউড়ি।

মূলতঃ তালগাছেই বাসা বাঁধতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে বাবুই পাখি। নিপুণ কারিগর বলা হয় বাবুই পাখিকে। বাবুই পাখিরা সার্বিকভাবে ছোট হলেও তাদের জ্ঞান ভাণ্ডার রয়েছে প্রচুর। একসময় আবহমান বাংলার গ্রামাঞ্চলে অবাধ বিচরণ ছিল তাদের। সুরেলা শব্দের মন মাতানো কিচিরমিচির শব্দ আগের মত এখন তেমন শোনা যায় না। বুদ্ধিমান বাবুই পাখি ও তাদের দৃষ্টিনন্দন বাসা হারিয়ে গেছে।

বয়স্করা জানায়- পাখিটি খুবই বুদ্ধিমান ও দেখতে ছোট হলেও বুদ্ধিতে সব পাখি হার মানায়। ঘাস, ওলতা পাতা দিয়ে তালগাছের মাথায় সুন্দর করে বাসা তৈরি করতে পারে বলে এদেরকে ‘তাঁতি পাখি’ বলা হয়। নিপুণ কারিগর এই পাখি স্ত্রী পুরুষ মিলে তাদের স্বপ্নের সংসার পাতে এবং তাতে ডিম পাড়ে বাচ্চা ফুটায়। আগে ছোট বেলায় রাস্তার ধারে, বাড়ির আনাচে-কানাচে অনেক তাল গাছ দেখা যেত কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষ তাল গাছ কেটে ফেলার ফলে আজ আর তাল গাছের মগডালে চিরচেনা বাবুই পাখির বাসা কমই নজরে পড়ে। তালগাছ কেটে ফেলা, বৈরী আবহাওয়া ও পাখি শিকারের ফলে আজ তালগাছে বাবুই পাখির কলতান আজ কমই শোনা যায়। তবে ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য গাছ-পালা নিধন বন্ধ হলে, এই চিরচেনা ঐতিহ্যগুলো আমাদের মাঝ থেকে হারাবেনা বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা।

তাই বাবুই পাখি আর বাবুই পাখির চিরচেনা বাসা আজ বর্তমান সময়ে ছেলেমেয়েদের কাছে শুধুই কল্পনা আর অতীত। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে যতেষ্ট পরিমাণ গাছ লাগানো ও পাখিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে আবারো জমে উঠবে গ্রামীণ পরিবেশ। সেদিন আবারও আমরা কবি রজনীকান্তের সুরে বলবো- বাবুই পাখিরে ডাকি—-!

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights