নয়ন দাস
শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।
শরীয়তপুরের নড়িয়াতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ফারুক দেওয়ান (২০) নামের এক তরুণের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে আহত অবস্থায় ওই তরুণকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
রবিবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল পাঁচটার দিকে নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের সাওরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত ফারুক দেওয়ান ওই এলাকার লতিফ দেওয়ানের ছেলে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, নশাসন ইউনিয়নের সাওরা এলাকার লতিফ দেওয়ানের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ প্রতিবেশী স্বপন দেওয়ান ও স্বপন দেওয়ানের বোন জামাই হারুন মাদবরের সাথে। রবিবার বিকেলে স্বপন দেওয়ান, নিজাম দেওয়ান, হারুন মাদবরসহ বেশ কয়েকজন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় লতিফ দেওয়ানের বসত বাড়িতে। এসময় লতিফ দেওয়ানের ছেলে ফারুক দেওয়ান তাদেরকে বাধা দিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ফারুক দেওয়ানের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে ফেলে ফেলে হারুন মাদবর। পরে ফারুক দেওয়ানের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এসময় ফারুক দেওয়ানকে দ্রুত উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন কর্ত্যবরত চিকিৎসক।
ভুক্তভোগী ফারুক দেওয়ান বলেন, আমাদের একটি জায়গা নিয়ে স্বপন দেওয়ানের ঝামেলা। সেই ঝামেলার সুত্র ধরে আমাদের বাড়িতে এসে হামলা চালিয়ে আমার হাতের আঙ্গুল কেটে ফেলে তারা।
আহত ফারুক দেওয়ানের মা জোসনা বেগম বলেন, আমার ছেলে দুপুরে ভাত খেয়ে ঘুমাইছিলো। পরে ওরা আমার বাড়িতে এসে হামলা চালায়। আমার ছেলে বাধা দিলে ওর উপর রাম দা দিয়া কোপ দিয়া হাতের আঙুল কেটে ফেলে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে হারুন মাদবর বলেন, লতিফ দেওয়ান আমাদের জায়গা জোর করে দখল করেছে। আমরা বিষয়টি জিজ্ঞেস করতে গেলে উল্টো তারাই আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় আমি আর আমার স্ত্রী ঝর্না বেগম আহত হয়েছি। ফারুক দেওয়ানের আঙ্গুল কীভাবে কেটেছে তা আমি জানিনা।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাবিকুন নাহার বলেন, ফারুক দেওয়ান নামের একটি ছেলেকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিলো। তার ডান হাতের একটি আঙ্গুল হাড়সহ কেটে গিয়েছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি এখনো শুনিনি। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।




















