নজরুল ইসলাম দয়া
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি।।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ইজিবাইক চালক মুকুল হোসেন (৩৮) হত্যার নয় দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ইজিবাইক ছিনতাই করতেই ওই চালককে নারীসঙ্গ প্রস্তাব দেয় তার দুই বন্ধু আনোয়ার ও এমদাদুল। কৌশলে তাকে খাওয়ানো হয় নেশাজাতীয় ও ঘুমের ট্যাবলেট মিশ্রিত যৌন উত্তেজক জিনসিং প্লাস। অচেতন মুকুলকে ধানক্ষেতের পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর লাশ ফেলে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র।
ক্লুলেস এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬জনকে আটকের পর রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাদেরকে বগুড়া কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ছিনতাইকৃত ইজিবাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য শেরপুর উপজেলার তাঁতড়া পশ্চিমপাড়ার জাবেদ আলীর ছেলে এমদাদুল হক মিলন (৩৩), নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছাতারদিঘী এলাকার শাহজাহান আলী শাহজামালের ছেলে আনোয়ার হোসেন প্রামানিক (৩৫), গুরুদাসপুর উপজেলার ধানুরা মধ্যপাড়ার তজির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল সবুজ (৩২), একই উপজেলার পশ্চিম ধানুরার রমজান আলী কমলের ছেলে আব্দুস সোবহান (৪৬), ধানুরা ঘোষপাড়ার শাহাদৎ আলীর ছেলে ঝানটু ওরফে জন্টু ওরফে বেল্লাল (২৮) এবং রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার উত্তর রায়পুর এলাকার ইছারুল হকের ছেলে নাজিরুল ইসলাম (৪৪)। এদের মধ্যে এমদাদুল হক মিলন শেরপুর উপজেলার টুনিপাড়া এলাকায় শশুর মৃত খোরশেদ আলমের বাড়িতে বসবাস করে এবং আনোয়ার হোসেন শেরপুরের হামচাপুর এলাকায় বসবাস করে।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ইজিবাইক চালক মুকুল হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাশ এলাকার মৃত দুদু মন্ডলের ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শেরপুরের হাটদিঘী পুকুর এলাকায় শশুরবাড়িতে থাকতেন। মুকুল ইজিবাইক চালানোর পাশাপাশি ধানের চাতালেও কাজ করতেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের চাকলমা থেকে কল্যাণনগর রাস্তারধারে ঠাকুরান পুকুর বড়চাপরা এলাকার ধানক্ষেতের পানিতে উপুর হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় ওই ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বগুড়া জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইজিবাইক ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে সংঘবদ্ধ চক্র। চালক মুকুলকে টার্গেট করে তারই দুই বন্ধু আনোয়ার ও এমদাদুল। তারা দুজনই সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শেরপুরের ধুনট মোড়ে ওই চালকেকে নারীসঙ্গ প্রস্তাব দেয় দুই বন্ধু। মুকুল সেই ফাঁদে পা দিয়ে দুই বন্ধুকে ইজিবাইকে নিয়ে খন্দকার টোলা মোড়ে যায়। শুভগাছা বাজারে গিয়ে তারা তিনটি যৌন উত্তেজক জিনসিং প্লাস ক্রয় করে। কৌশলে একটি বোতলে নেশাজাতীয় ও ঘুমের ট্যাবলেট মিশ্রণ করে ইজিবাইক চালক মুকুলকে খাওয়ায় দুই বন্ধু। সে ঘুমিয়ে পরলে তাকে ধরে পেছনে বসিয়ে দুই বন্ধু ইজিবাইক নিয়ে কালীগঞ্জের রাস্তা দিয়ে চাকলমা বাজারে যায়। রাত ১০টার দিকে চাকলমা থেকে কল্যাণনগর রাস্তারধারে চালক মুকুলকে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে ধানের জমির আইলের ধারে পানিতে ফেলার পর সে নড়াচড়া করে। তখন ওই চালকের মাথা পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়। সেখানে লাশ ফেলে হত্যাকারীরা ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই ইজিবাইক বিক্রি করে দেয়। আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যা ও ছিনতাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।





















