আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

শতবর্ষী সেই পুকুর ভরাটের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাদেশ

  • In জাতীয়
  • পোস্ট টাইমঃ ৫ জুন ২০২৩ @ ০৬:৫১ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৫ জুন ২০২৩@০৬:৫১ অপরাহ্ণ
শতবর্ষী  সেই  পুকুর ভরাটের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাদেশ

।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় শত বছরের পুরোনো ডিআইটি প্লট পুকুর ভরাট-দখলের ওপর স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এই নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এতে ওই পুকুরে স্থাপনা অবকাঠামো নির্মাণের ওপরও স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ জুন) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

রুলে এ পুকুরের দখল কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না; তা জানতে চেয়েছেন উচ্চ আদালত। আরএস ও সিএস অনুসারে পুকুর কেন রক্ষা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে না; তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
স্থানীয় সরকার সচিব, পরিবেশসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, ঢাকার জেলা প্রশাসক, স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), স্থানীয় ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহানা আক্তার, সাবেক কাউন্সিলর সাইদুর রহমান শহীদসহ ১১ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সেলিম আজাদ। আর আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আদালত থেকে বের হওয়ার পর তিনি জানান, আদালত আদেশে পুকুর ভরাট-দখল, স্থাপনা, অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধে স্থিতাবস্থার নির্দেশ দিয়েছে। এটা কার্যকরী করে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে রাজউক, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রসঙ্গত রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় শত বছরের পুরোনো ডিআইটি প্লট পুকুর রক্ষায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। গত রোববার (৪ জুন) মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এইচআরপিবি’র পক্ষে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এ রিট আবেদন করেন। এতে বলা হয়েছে, বিবাদীরা বিদ্যমান আইন অনুসারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিলে রাজধানীর শ্যামপুর-গেন্ডারিয়া এলাকার পুকুর দখল, ভরাটের মতো ঘটনা ঘটতো না। তাছাড়া নদী, জলাধার, পুকুর ভরাট-দখল বন্ধ করতে বিবাদীরা আইনত বাধ্য।

পুকুরটি ব্যক্তি মালিকানাধীন হলেও মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা, পৌর এলাকাসহ দেশের সব পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ এর ২(চ) অনুসারে প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত। বিদ্যমান এ আইনের ৮ ধারা অনুসারে প্রাকৃতিক জলাধার, ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। কেউ তা করলে ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পরে ডিআইটি পুকুরের জায়গায় মাটি ভরাট, দখল, স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য। তারপরও পুকুরটি ভরাট-দখল ঠেকাতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাসহ অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনবে।এছাড়া আইনের প্রয়োগ না হলে আইনের অপব্যবহার ঘটে। আর এতে নাগরিককে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।

নিপ্র/কেএইচ/তারিখ:০৫০৬২৩/১৮:৪৭

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights