।।রংপুর মহানগর প্রতিবেদক।।
রংপুরের মিঠাপুকুরে আওয়ামী লীগের দু গ্রুপের সংঘর্ষে ৩ পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়ে টানা ২ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ ও প্রশাসন।দু’গ্রুপের সংঘর্ষে, উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার গ্রুপের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বাবু নিরঞ্জন মোহন্ত, শামীমা আখতার জেসমিন ছাড়াও রুহুল আমিন, রাহাত ইসলাম, শাহিদ হাসান প্রিন্স, কামরুজ্জামান, নুরে আলম সিদ্দিকী, সোহেল রানা, রাজা মিয়া, মমিন মিয়া, নাজমুল, কামরুল হাসান, আমিনুল ইসলাম মিলু, বুলবুল, হুমায়ন, শাহেদ, আমজাদ, স্বাধীন আহম্মেদ, মামুন, মেশকাত, গোলাম মিয়া, রেজাউল করিম মাস্টারসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে কারও মাথা, কারও চোখ এবং কারও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অপরদিকে এইচএন আশিকুর রহমান এমপি ও রাশেক রহমান গ্রুপের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানান উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোন্নাফ হোসেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমি ইউএনও এবং ওসির সাথে আজকের কর্মসূচির বিষয়ে কথা বলেছি। তারা উপজেলা চত্বরে প্রবেশ নিষেধ করে মহাসড়কের ওভার ব্রিজের নিচে সমাবেশ করতে বলেছেন। আমরা সে অনুযায়ী মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যাচ্ছিলাম। আমাদের মিছিলের শেষের অংশে পরিকল্পিতভাবে এমপি গ্রুপের লোকজন হামলা চালায়। পরবর্তীতে আমাদের সভাস্থলের চেয়ার ভাংচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এতে আমাদের শতাধিক কর্মী আহত হয়েছে।
উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আব্দুল্লা আবু সাঈদ বলেন, আমাদের অনেকেই আহত হয়েছে। এই মুহূর্তে সংখ্যা বলতে পারছি না। তবে আহতদের মধ্যে শরিফ, রাব্বি হাসান, মেহেদী, জিয়ন, শিহাব, রাখিবুল, সৌদিক, ইকবাল, রুবেলসহ অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রদক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ, একদিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এইচএন আশিকুর রহমান এমপি ও রাশেক রহমানের সমর্থকেরা এবং অপরদিকে মিঠাপুকুর ওভার ব্রিজের নিচে উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকারের সমর্থকেরা পৃথক পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করেন। বিকালে উপজেলার ঈদগা মাঠ এলাকা থেকে মিঠাপুকুর ওভার ব্রিজের নিচে সমাবেশস্থলে র্যালি নিয়ে আসছিল জাকির হোসেন সরকার।
এসময় এমপি গ্রুপের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। মুহূর্তেই মিঠাপুকুর উপজেলা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুপক্ষের লোকজন ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে পুলিশের ৩ সদস্যসহ অন্তত ২ শতাধিক নেতাকর্মী ও পথচারী আহত হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতায় রংপুর জেলা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ ২ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। অবশেষে প্রশাসনের যৌথ উদ্যাোগে সন্ধা ৭ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ ও প্রশাসন।
এইচএন আশিকুর রহমান এমপি ও রাশেক রহমান গ্রুপের সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক মিন্টু মিয়া বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা চত্বরে অবস্থান করছিলাম। এসময় অপর গ্রুপের একটি র্যালি মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের লোকজনের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।এদিকে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকারের নেতৃত্বে মিঠাপুকুর ওভার ব্রিজের নিচে আলোচনা সভায় প্রতিবাদ জানান নেতাকর্মীরা। অপরদিকে এইচএন আশিকুর রহমান এমপি ও রাশেক রহমানের সমর্থকেরা মহাসড়কে একটি প্রতিবাদ মিছিল শেষে উপজেলা চত্বরে সমাবেশ করেন।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুলিশসহ অনেকেই আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।





















