।।নেত্রকোনা প্রতিনিধি।।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, ‘আওয়ামী বলছে সংবিধান অনুযায়ী আগামী সংসদ নির্বাচন হবে। এটা তাদের এক দফা। আবার বিএনপি বলছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এটা তাদের এক দফা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পাগল এবং শিশু ছাড়া আর কেউ-ই নিরপেক্ষ না। সত্যি বলতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জনগণের কথা ভাবে না। জনগণের প্রতি তাদের কোনো সিমপ্যাথি নাই। জনগণ গোল্লায় যাক, দেশ গোল্লায় যাক। তাদের চাই ক্ষমতা। দুটি দলই ক্ষমতার পাগল এবং ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদের চরিত্র এক। আর তা হল ক্ষমতায় যাওয়ার পর এ দুটি দলই অনিয়ম আর লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে।
শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিভিন্ন অন্যায়-অনিয়ম তুলে ধরে কঠোর সমালোচনা করে চুন্নু বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে বিএনপি বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ষড়যন্ত্র করে তাদের পরাজিত করেঋে। আবার বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ষড়যন্ত্র করেছে। প্রকৃতপক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারও নিরপেক্ষ নয়। নিরপেক্ষ পদ্ধতি হল- শুধু প্রতীক দিয়ে নির্বাচন দেওয়া। যে নির্বাচনে কোনো প্রার্থী থাকবে না। ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন করা হবে। এতে ছোট দলগুলোও সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ-বিএনপি তা চায় না।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের কি হবে- তা আমার বলার দরকার নাই। সেটা ওবায়দুল কাদেরই বলেছেন। আর বিএনপি নির্বাচনে না গেলে মুসলিম লীগে পরিণত হবে। কারণ কোন ফর্মুলায় নির্বাচন হবে এ নিয়ে বড় দুটি দল এখনও একমত হতে পারেনি। দুটি দলই সাধারণ মানুষের কাছে আস্থা হারিয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচন হলে সাধারণ জনগণ জাতীয় পার্টিকেই ভোট দেবে।
কেন্দুয়া উপজেলা পাবলিক হল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল আউয়াল মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, ময়মনসিংহ ৮ আসনের এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান খলিল, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আহমেদ, সাবেক এমপি সালাহ উদ্দিন মুক্তি, সাবেক এমপি গোলাম রব্বানী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নেত্রকোনা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এডভোকেট লিয়াকত আলী খান, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ভূইয়া, নেত্রকোনা জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মান্নান খান আরজু, তাড়াইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম ভূইয়া শাহীন, নেত্রকোনা জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান খোকন প্রমুখ।
পরে দ্বিতীয় অধিবেশনে আব্দুল আউয়াল মন্ডলকে সভাপতি, হাবিবুর রহমান খানকে সিনিয়র সহসভাপতি ও আনোয়ার হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দুয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির নতুন কমিটি ঘোষণা করেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এডভোকেট লিয়াকত আলী খান।






















