আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

চ্যাম্পিয়ন জিনিয়ার জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনিশ্চিত

  • In জাতীয়, মাঠে ময়দানে
  • পোস্ট টাইমঃ ২২ মার্চ ২০২৩ @ ০৭:০০ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২২ মার্চ ২০২৩@০৭:০০ পূর্বাহ্ণ
চ্যাম্পিয়ন জিনিয়ার জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনিশ্চিত

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
তিস্তাপাড়ের আট বছরের মেয়ে জিনিয়া, ১০০ মিটার দৌড়ে বিভাগ চ্যাম্পিয়ন, স্বপ্ন তার বিশ্বের বুকে দেশের পতাকা উড়াবার। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়ার আগে পড়েছে আর্থিক সংকটে।

জাতীয় প্রথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৩ তে চমক দেখায় জিনিয়া আক্তার। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার নোহালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে অংশ নিয়ে উপজেলা জেলা ও বিভাগে প্রথম হয় সে। চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী প্রথমবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই যে কীর্তি গড়েছে তার নিঃসন্দেহে প্রসংশার দাবিদার। এর আগে এমন কীর্তি ছিল না এই বিদ্যালয়ের অন্য কোনো শিক্ষার্থীর। ভালো মানের প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজেকে বিভাগে সেরা করলেও এগুবার রাস্তা পাচ্ছে না জিনিয়ার পরিবার। সমাজের নানান কথা উপেক্ষা করে মেয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ালেও আর্থিক দুরাবস্থা পিছু টানছে জিনিয়ার পরিবারকে।

২১ মার্চ সড়ে জমিনে জিনিয়ার স্কুলে গিয়ে দেখা যায় স্কুল ড্রেস ছাড়াই স্কুলে এসেছে জিনিয়া। খবর নিয়ে জানা যায় নেই তার স্কুল ড্রেস। পরে ছবি তুলতে হবে বলে পঞ্চম শ্রেণির সাদিয়া আক্তারের ড্রেস জড়িয়ে নেয় নিজের গায়ে। দায়ে পরে গায়ে জড়ানো এই পোষাকে জিনিয়া জানায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগে যে কীর্তি গড়েছে সেটাই লক্ষ্য তার জাতীয় পর্যায়ে। শুধু তাই নয় দেশের পতাকা বিশ্বের বুকে উড়বার ইচ্ছা আছে তার।

উক্ত বিদ্যালয়ের প্রোক্তন শিক্ষার্থী ও বর্তমান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম জানান জিনিয়ার কীর্তিতে তারা গর্বিত। সুযোগ পেলে গ্রামের মেয়েরাও অনেক কিছু করতে পারে জিনিয়া তার উদাহরণ।

বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিক ও জিনিয়ার কারিগর মোছা. ইসমত জাহান সাইয়েদা বলেন ‘ আমি আমার সামর্থ্য মত খেলাখুলা করানোর পাশাপাশি জিনিয়ার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছি৷ আমি চাই জিনিয়া আরও ভালো কিছু করুক। কিন্তু জিনিয়ার উন্নতমানের প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। আর্থিক সমস্যার কারণে এই সমস্যা কাটিয়ে তাকে স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট শিক্ষার্থী বানাতে পাচ্ছি না।

জিনিয়ার প্রধান শিক্ষক মোছা. সেলিনা পারভীন বলেন ‘ আমাদের এমন রেকর্ড আগে কারও ছিল না। তাই আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে উদাসীন ছিলাম। তবে এরপর থেকে এক জিনিয়াকে দেখিয়ে আরও অনেক প্রতিভাবান শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে আসার স্বপ্ন দেখছি আমরা। এই জন্যে সকলের সাহায্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

অন্যদিকে জিনিয়ার মা মোছা. আরেফা বেগমের গলায় যাতনার সুর। পেশায় গৃহিণী এই মহিলা জানান অভাবের সংসারে জিনিয়া তিন মেয়ের মধ্যে সবার ছোট। তার বড় মেয়েকে এইচএসসি পরিক্ষার পর বিয়ে দিয়েছেন অভাবের কারণে। মেজো এবার এইচএসসি পরিক্ষার্থী। ছোট মেয়েকে নিয়ে আশায় বুক বেধেছেন। কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে না পারায় বাড়িতেই মেয়েকে নিজে দৌড়-ঝাপ করান। কিন্তু জিনিয়ার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম পেশায় কৃষিজীবি। সারা বছর সংসারে লেগেই থাকে অভাব। নুন আনতে পান্তা ফুড়াবার মত পরিবারে জন্ম নেওয়ায় মেয়ের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পাবেন না তারা। তবে মেয়েকে ঢাকায় প্রতিযোগিতায় পাঠাতে চেয়েছেন সকলের সহযোগিতা। তিনি বিশ্বাস করেন সকলের সহযোগিতা পেলে তার সন্তান নিজের প্রতিভা বিকাশ ঘটাতে পাবে।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights