আজ ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

‘ওপেনহাইমার’ নিয়ে বিতর্ক, ধর্মীয় অবমাননা

  • In বিনোদন
  • পোস্ট টাইমঃ ২৩ জুলাই ২০২৩ @ ০২:২২ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২৪ জুলাই ২০২৩@০১:৪৭ অপরাহ্ণ
‘ওপেনহাইমার’ নিয়ে বিতর্ক, ধর্মীয় অবমাননা

।।বিনোদন ডেস্ক।।

মুক্তি পেয়েছে ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল প্রত্যাশিত চলচ্চিত্র ‘ওপেনহাইমার’। বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা ছিল সিনেমাটি ঘিরে। আগ্রহ ছিল ভারতীয় দর্শকদের মাঝেও। মুক্তির পর বক্স অফিসেও তার প্রভাব চোখে পড়ল।

প্রথমদিনেই ১৩.৫০ কোটি রুপি ঘরে তুলেছে সিনেমাটি। তবে সেই সঙ্গে টেনে এনেছে বিতর্কও!
মুক্তির আগে ‘ওপেনহাইমার’-এর সঙ্গে হিন্দুধর্মীয় গ্রন্থ ভগবদ্গীতার যোগসূত্রের কথা শোনা গিয়েছিল। ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত এই সিনেমাতে দেখা যাবে, পরমাণু বোমা আবিষ্কারের উৎসাহ ভগবদ্গীতা থেকে পেতেন রবার্ট ওপেনহাইমার। আর এই সংবাদে দারুণ উৎসাহী ছিলেন ভারতীয় দর্শকেরা।

কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পাল্টে গেছে। এখন সিনেমাটির সঙ্গে ভগবদ্গীতার সংযোগসূত্রটি নিয়ে রেগে আগুন অনেকেই। দাবি উঠেছে, এই দৃশ্য সিনেমা থেকে বাদ দেওয়ার। নয়তো বয়কট করা হবে এটি।
বলিউডের পর এবার হলিউড বয়কটের ডাকে সরব হচ্ছে হিন্দু সংগঠনগুলো।
ওপেনহাইমারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিলিয়ান মার্ফি এবং ট্যাটলকের চরিত্রে ফ্লোরেন্স পিউ। সিনেমার একটি দৃশ্যে দেখা গেছে রবার্ট ওপেনহাইমার এবং তার প্রেমিকা জিন ট্যাটলক সঙ্গমরত রয়েছেন। এই দৃশ্যের মাঝে দেখা যায়, ট্যাটলক উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যান ওপেনহাইমারের বইয়ের আলমারির দিকে। সেখান থেকে একটি বই বের করে নেন।

জানতে চান, এটি কোন ভাষায় লেখা? ওপেনহাইমার বলেন, সংস্কৃত। ট্যাটলক একটি বিশেষ পাতা খুলে জানতে চান, কী লেখা সেখানে। ওপেনহাইমার ব্যাখ্যা করতে গেলে তিনি বারণ করেন এবং বলেন, লাইন বাই লাইন বলতে। ওপেনহাইমার ইংরেজি অনুবাদে লাইনগুলি বলতে থাকেন, ‘আমি এখন মৃত্যু। পৃথিবীর ধ্বংসকারী’। এরই মধ্যে ট্যাটলক এবং ওপেনহাইমারের পুনরায় সঙ্গম শুরু হয়। আর এই দৃশ্যের কারণেই ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে ভারতে। এই দৃশ্য সিনেমার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ হতেই পারে, কিন্তু অনেক হিন্দুই মনে করছেন, এটি তাদের জন্য অবমাননাকর। অনেকে এমন দাবিও করেছেন, এই দৃশ্যে গীতার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তাও ঠিক নয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেক ভারতীয় সরব হয়েছেন দৃশ্যটির বিষয়ে। তাদের দাবি, দৃশ্যটি ভারতের জন্য অযৌক্তিক। এটি গীতাকে অবমাননা করেছে। দৃশ্যটি মুছে ফেলা হোক।

জে রবার্ট ওপেনহাইমার ছিলেন আমেরিকার পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে তার গবেষণা করেন। পরবর্তীকালে আমেরিকা যখন পরমাণু বোমা তৈরির কাজ শুরু করেন, তখন সেই ম্যানহ্যাটন প্রজেক্টের অসামরিক প্রধান ছিলেন ওপেনহাইমার। পরবর্তীকালে যাকে ‘পরমাণু বোমার পিতা’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়। এহেন ওপেনহাইমারের জীবন নিয়েই এই সিনেমার গল্প।সিনেমার গল্পের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ যোগ থাকলেও এটি কখনও যুদ্ধের চলচ্চিত্র হয়ে ওঠেনি। বরং প্রকৃতি অর্থে যুগান্তকারী হয়ে উঠতে পারে, এমন এক অস্ত্রের নির্মাণ কিভাবে হয়েছে, কিভাবে আমেরিকার নিশ্ছিদ্র নিরপত্তা বলয় ভেদ করে তা পৃথিবীর আরও কয়েকটি দেশের হাতে পৌঁছে গেছে, সেই নিয়েই এগিয়ে গেছে সিনেমাটির গল্প।

ক্রিস্টোফার নোলান রচিত এবং পরিচালিত চলচ্চিত্রটি কাই বার্ড এবং মার্টিন জে শেরউইনের ‘আমেরিকান প্রমিথিউস’-এর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে। এতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সিলিয়ান মারফি। আরো রয়েছেন এমিলি ব্লান্ট, ফ্লোরেন্স পুগ, রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ম্যাট ড্যামন, রামি মালেক, বেনি সাফডির মতো তারকা।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights