রিকোর্স চাকমা
রাঙামাটি প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় কাপ্তাই পানি বিপদ সীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পানি বৃদ্ধির কারণে ডুবে গেছে অনেকের ঘর বাড়ি, রাস্তা ঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে বেড়েছে জনদুর্ভোগ।
রাঙামাটির শহরের আসাম বস্তি, ব্রাক্ষণ টিলা, রাঙাপানি, হাসপাতাল এলাকা, পাবলিক হেলথ, রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি, পুরানবস্তি সহ বেশ কিছু কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী এলাকায় নির্মিত স্থাপনা পানিতে ডুবে গেছে। কাপ্তাই বাঁধের পানি ছাড়া না হলে দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলছে স্থানীয়রা।

শহরের হাসপাতাল এলাকার মোঃ আসিফ বলেন, গত কয়েক দিন ধরে আমাদের বাড়িতে পানি উঠে
আমাদের যাতায়াতের রাস্তা ডুবে গেছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে আসা যাওয়া করতে কষ্ট হচ্ছে। আমরা খুব কষ্টে আছি।
একই এলাকার বাসিন্দা নাজমা বলেন, আমরা খুব কষ্টে আছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না আতঙ্কে জেগে থাকতে হয়। ঘরে পানি উঠে রান্না বান্না করতে পারছি না ঘরে চুলা জ্বলছে না, বাথরুম করা যাচ্ছে না।
ব্রাক্ষণ টিলার বাসিন্দা রাসেল বলেন, পানিতে আমাদের বাড়ি ও রাস্তা ডুবে গেছে। আমাদের থাকা খাওয়া ও যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে। কলেজে ঠিকমতো যেতে পারছি না।
ডুবে গেছে জেলার চার উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন;
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃ্দ্ধির ফলে ডুবে গেছে জেলার চার উপজেলা( বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি) উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের নিম্নাঅঞ্চল এলাকার বাড়ি ঘর, রাস্তা ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমিতে পানি ওঠে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার জানান, উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়ন ও ৩ টি পৌরওর্য়াড প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ডুবে গিয়েছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি, রাস্তা ঘাট, ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যায় প্লাবিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো আপাতত বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ টন চাল ও নগদ ২ লক্ষ টাকা পেয়েছি চাল গুলো বিতরণের কার্যক্রম চলতেছে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ খান বলেন, জেলার ৪টি উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে দুর্ভোগ বেড়েছে। দুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির পাশপাশি ত্রাণ কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি সংকট দেখা দেওয়ায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
ডুবে গেছে জেলার চার উপজেলার ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ
কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধির ফলে ডুবে গেছে জেলার ৪ চার উপজেলার ১৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩ টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ডুবে যাওয়া বিদ্যালয়গুলোতে আপাতত পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, পানি বৃদ্ধির ফলে আমাদের ১৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। কিছু কিছু এলাকার রাস্তা ডুবে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৃদুল কান্তি তালুকদার বলেন, আমরা এই পর্যন্ত রিপোর্ট পেয়েছি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় ২ টি ও লংগদু উপজেলায় ১টি সহ মোট ৩ টি উচ্চ বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত বিদ্যালয়গুলোতে আপাতত পানি না কমে যাওয়া পর্যন্ত শ্রেনি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আপ্রু মারমা বলেন, বন্যার পানিতে কৃষিতে ক্ষতি বাড়ছে। পানি বাড়ায় ৩২১২ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে গেছে। বিশেষ করে ফসলি জমি, সবজি ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদের পানির সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট। বর্তমানে পানি রয়েছে ১০৮.৫৪ ফুট। এমন অবস্থায় তলিয়ে গেছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। কাপ্তাই হ্রদের পানি ছাড়া বৃদ্ধি না হলে যেকোন সময় উপচে পড়বে কাপ্তাই হ্রদের পানি।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা,বর্তমানে কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা ১০৮. ৫৪ ফুট পানি রয়েছে। হ্রদের পানি বাড়ায় ফের খুলে দেওয়া কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬ টি গেইট দিয়ে দেড় ফুট পরিমাণ পানি ছাড়ছে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ ১৯৬০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রাঙামাটি কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করা হয় কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাঁচটি ইউনিট হতে সর্বমোট ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যা জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হয়। বাঁধ দেওয়ার ফলে ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিশাল জলধারা সৃষ্টি হয়। হ্রদের কারণে জেলার ৫৪ হাজার কৃষি জমি পানিতে ডুবে যায়। যা পার্বত্য চট্টগ্রামের চাষযোগ্য জমির জমির প্রায় ৪০ ভাগ। এই বাঁধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় এক লাখেরও বেশি মানুষ।






















