জে এইচ জনি।
স্টাফ রিপোর্টার।।
লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ভয়াবহ বন্যার আশংকা রয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার মানুষের বসত বাড়ি ফসলি জমি। পানি বন্দি লক্ষাধিক মানুষ। ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। রাত থেকে হু হু করে উজান থেকে পানি আসতে থাকায় নদীর দুইপাড়ের মানুষের নির্ঘুম রাত কেটেছে।

ছবি- বিডিহেডলাইন্স
সকাল থেকে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৩২সেঃ উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল নয়টায় পানির প্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার, যা স্বাভাবিক সমতল হচ্ছে ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার উপর। পানির চাপ সামাল দিতে ব্যারেজের ফ্লাড বাইপাস কেটে দিতে হতে পারে বলে জানান এলাকাবাসী। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারনে নদীর তীরবর্তী পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতিবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গড্ডিমারি, পাটিকাপাড়া, সিন্দূর্না ইউনিয়ন, কালিগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর, গোকুন্ডা, খুনিয়াগাছ, মোগলহাট ইউনিয়নের বেশীর ভাগ অংশ নদীর জলে তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে এসব অঞ্চলে পানীয় জল ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ছবি- বিডিহেডলাইন্স
উজানে ভারত থেকে আসা পানির কারনে ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায় গত রাত থেকে। পানি বৃদ্ধির কারনে সদর উপজেলার গোকুন্ডা, তিস্তা, কালমাটি, খুনিয়াগাছ, মাস্টারপাড়া, হরিণচড়া, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালীগঞ্জ উপজেলার রুদ্রেশ্বর, শৈলমারী, বৈরাতি, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডীমারীসহ নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করায় আবারও বিপাকে পড়েছে এসব এলাকার লোকজন। এছাড়াও মোগলহাট, কুলাঘাট, বড়বাড়ি ইউনিয়নে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে ফলে নদীর তীরবর্তী বোয়ালমারি, খারুয়া, ফলিমারিরচর, কুলাঘাট, শিবেরকুটি, বুমকা, খাসপাড়া, কলাখাওয়া, চর বাসুরিয়া এলাকা ডুবে গেছে। এসব অঞ্চলের মানুষের জন্য পানীয় জল ও শুকনো খাবারের সংকটে প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে।

ছবি- বিডিহেডলাইন্স
মোগলহাট ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের সাথে কথা হলে জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে ধরলা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেশকিছু মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজনের সাথে কথা হলে জানান, সকাল থেকে বন্যাকবলিত খুনিয়াগাছ রাজপুর, গোকুন্ডা, মোগলহাট, কুলাঘাট থেকে মানুষ ফোন করে সমস্যার কথা জানাচ্ছে। আমরা সহযোগিতার চেষ্টা করছি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আফসা-উদ-দৌলা বলেন, উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষজনকে নিরাপদ ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বৃহস্পতিবার রাতে বিডিহেডলাইন্সকে বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের সাথে কথা হলে তিনি বলেব- আমরা পানি বন্দি মানুষের দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে যাব। পরিদর্শন করে এসে জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।






















