আজ ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ এবং ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

দিনাজপুর নাট্য সমিতির ১১০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নাটক “বীরবান্টা” মঞ্চস্থ

দিনাজপুর নাট্য সমিতির ১১০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নাটক “বীরবান্টা” মঞ্চস্থ
ছবি- বিডিহেডলাইন্স

রফিক প্লাবন
দিনাজপুর প্রতিনিধি।।

শিল্পকলা পদকপ্রাপ্ত সৃজনশীল প্রাচীন প্রতিষ্ঠান দিনাজপুর নাট্য সমিতির ১১০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গৃহিত কর্মসুচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৩ জুন ২০২৩) রাত ৮ টায় নাট্য সমিতি মঞ্চে “বীরবান্টা” নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।

বীরবান্টা নাটকে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাঁওতালদের মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও তাদের জীবনযন্ত্রণার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সাঁওতালি ভাষায় ‘বীরবান্টা’-র অর্থ হচ্ছে যোদ্ধা।

দিনাজপুর নাট্য সমিতির প্রযোজনা এবং ড. টিটো রেদওয়ানের রচনা ও নির্দেশনায় মঞ্চস্থ “বীরবান্টা” নাটকটি পিনপতন পরিবেশে বিপুল সংখ্যক নাট্যপ্রেমি দর্শক উপভোগ করেন। নাট্য সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বীরবান্টা নাটকের এটি ৩য় মঞ্চায়ন।

ছবি- বিডিহেডলাইন্স

এ প্রসঙ্গে নাট্যকার ও নির্দেশক ড. টিটো রেদওয়ান জানান, বীরবান্টা নাটকটিতে মুক্তিযোদ্ধা হাবেলের জীবনকাহিনী কিংবা তার যুদ্ধের বাস্তবচিত্র হুবহু তুলে ধরা হয়নি, তবে মুক্তিযোদ্ধা হাবেলকে সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ নিয়ে লোকবৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ। মোট জনসংখ্যার মাপকাঠিতে বাঙালি ছাড়া অন্যান্য জাতিসত্তার মানুষ সংখ্যালঘু। হয়তো সে কারণেই তাদের আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলছি। সংখ্যায় ক্ষুদ্র হলেও পৃথিবীর যে কোনো বৃহত্তর জাতিগোষ্ঠীর মতো এদের আছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি।

সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাথে দেশের উত্তরাঞ্চলে রয়েছে সাঁওতাল, ওঁরাও, মহাতো, মুণ্ডা, মাহালী, কোল, পাহান, মালো, রাজবংশী ও পলিয়াসহ অনেক জাতিসত্তার বসবাস। যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছে অথচ তাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ইতিহাস অনেকেরই অজানা। সাঁওতালদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান ও জীবনব্যবস্থা এবং পারিবারিক বন্ধন অন্য যে কোনো জাতির তুলনায় কোনো অংশে কম নয়। শুধু তাই নয় এদের আছে ইতিহাসখ্যাত সাঁওতাল বিদ্রোহসহ জীবনসংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস। এছাড়া তেভাগা আন্দোলন, নাচোল বিদ্রোহসহ যুগঘটনার প্রেক্ষাপটে এমন বহু খণ্ডযুদ্ধ ঘটেছে যার ইতিহাস সগর্বে প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য বৃহত্তর দিনাজপুর তথা উত্তরাঞ্চলের সাঁওতালরাও পিছিয়ে নেই। বিশেষতঃ ইংরেজ বিরোধী সংগ্রাম ও ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রামে সাঁওতালদের প্রচ্ছন্ন ভূমিকার নিদর্শন পাওয়া যায়। এতদসত্ত্বেও আমাদের দেশে সাঁওতালসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা সামাজিক-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও শোষণের শিকার হয় ফলে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত।

ছবি- বিডিহেডলাইন্স

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন দিনাজপুর নাট্য সমিতির ১১০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বীরবান্টা নাটকের ৩য় মঞ্চায়ন নিঃসন্দেহে দিনাজপুরের নাট্য চর্চার ইতিহাসে একটি মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। দর্শকদের ভালো লাগলে তবেই আমাদের সার্থকতা।

বীরবান্টা নাটকে যারা অভিনয় করেছেন তারা হচ্ছেন- হাবেল, সিঁধু, সূর্যরাম চরিত্রে শামীম রাজা; মঙ্গলি চরিত্রে কোরাইশা আখতার স্মৃতি; মহাজন চরিত্রে টিটো রেদওয়ান; টেমকু চরিত্রে মোঃ নুর ইসলাম; ফরিদ চরিত্রে সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু; কমান্ডার চরিত্রে ষষ্ঠি চন্দ; সুকেন, নারায়ণ, খান সেনা চরিত্রে লেলিন নাগ; ঢবো, মুর্মু, কানু চরিত্রে সাইফুল ইসলাম; লাঠিয়াল, ফজলু, আজিজার চরিত্রে রহমতুল্লাহ রহমত; মজিদ, হাড়মা চরিত্রে শহীদুল ইসলাম; হামিদার মা চরিত্রে মাসুদা খাতুন; রতিয়া চরিত্রে উম্মে তাজরিয়ান তোরসা; মান্ডি, বালিকা-১, ভাবি চরিত্রে খুকি হেমব্রম; নিমি, বালিকা-২ চরিত্রে আলফি শাহরিন শুচি; ভাই চরিত্রে ওয়াসিম আহমেদ শান্ত; হামিদা চরিত্রে নুরাঈন নাদিয়া স্নেহেতা।

ছবি- বিডিহেডলাইন্স

এছাড়া অন্যান্য কলাকুশলীদের মধ্যে সংগীতে টিটো রেদওয়ান, নৃত্যে অর্চনা দেবী সরেন ও খুকি হেমব্রম, পোশাক পরিকল্পনায় কথাকলি কথক, প্রপসে মো: নূর ইসলাম, শব্দ সংযোজন ও মাল্টিমিডিয়ায় জাকির হোসেন, মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় সম্বিত সাহা সেতু ও চন্দন কুমার সরকার এবং বাদ্যযন্ত্রে রেসাত আলম রনি।

এর আগে বুধবার (২১ জুন ২০২৩) রাতে দিনাজপুর নাট্য সমিতির ১১০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।

দিনাজপুর নাট্য সমিতির সভাপতি চিত্ত ঘোষ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাবির্ক) দেবাশীষ চৌধুরী, দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফুজ্জামান মিতা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা শাখার সভাপতি সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু। স্বাগত বক্তব্য দেন নাট্য সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রবিউল আউয়াল খোকা।

ছবি- বিডিহেডলাইন্স

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় বিশিষ্ট নাট্যজন নাট্য সমিতির নাট্যাধ্যক্ষ ও শিল্পকলা একাডেমির পদকপ্রাপ্ত নাট্যব্যক্তিত্ব কাজী বোরহান, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামসুল আলম ও এককালের নাট্যমঞ্চ কাঁপিয়ে তোলা নারী নাট্যশিল্পী ছায়া আকবরকে দিনাজপুর নাট্য সমিতির পক্ষে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট, উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন প্রধান অতিথি নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।

আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে ১৯১৩ সালের ২১ শে জুন ডিএল রায় রচিত ও ভূপাল সেন গুপ্ত নির্দেশিত নাটক সমিতির প্রথম নাটক মঞ্চস্থ নাটক “চন্দ্রগুপ্ত” এর পাঠ করে শিল্পীরা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ৯ টায় নাট্য সমিতিতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এর মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন সভাপতি চিত্ত ঘোষ এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রবিউল আউয়াল খোকা। এরপর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন নেতৃবৃন্দ।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights