।।ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক।।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা হিসেবে বিতর্কিত ক্লাস্টার বোমা দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ। শুক্রবার ইউক্রেনে অস্ত্রটি পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন এটা খুবই কঠিন এক সিদ্ধান্ত। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং স্পেন বলেছে তারা সবাই এই অস্ত্রের ব্যবহারের বিরোধিতা করছেন।
বেসামরিক মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরির কারণে বিশ্বের একশর বেশি দেশে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই বোমা আকাশে ভেঙে আরও ছোট ছোট বোমার আকার নিয়ে আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ছোট টুকরাগুলো মাটিতে আঘাত করে বিস্ফোরিত হওয়ার জন্যই নকশা করা, তবে সবসময় তা ঘটে না। ফলে পরবর্তীতে বেসামরিক মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।
সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জো বাইডেন বলেছেন, ক্লাস্টার বোমা সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মিত্রদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আটশ মিলিয়ন ডলারের নতুন সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে এই অস্ত্র পাঠানো হয়েছে। বাইডেন বলেন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আশ্বস্ত হতে তার সময় লেগেছে। তবে তারপরও এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কারণ ইউক্রেনীয়দের গোলাবারুদ শেষ হয়ে আসছে।
মার্কিন সিদ্ধান্ত ঘোষণা পরপরই এর সমালোচনা করে মানবাধিকার গ্রুপ হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল। এক বিবৃতিতে গ্রুপটি বলেছে, যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ক্লাস্টার বোমা বেসামরিক মানুষের প্রাণ কাড়তে পারে।
শনিবার পশ্চিমা কয়েকটি মিত্রদেশও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে অস্বীকার করে। এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ক্লাস্টার বোমা প্রতিরোধ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ১২৩ দেশের একটি যুক্তরাজ্য।
স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোবেলস সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেনকে সহায়তা হিসেবে কয়েকটি অস্ত্র ও বোমা না পাঠাতে তার দেশের প্রতিশ্রুতি কঠোর। তিনি বলেন, ‘ক্লাস্টার বোমাকে না এবং ইউক্রেনের বৈধ প্রতিরক্ষাকে হ্যাঁ। আমাদের বোঝাপড়া হলো ক্লাস্টার বোমা দিয়ে বৈধ প্রতিরক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব না।’
মার্কিন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে কানাডা সরকার। তারা বলছে, বোমাগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তাদের বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব বোমার টুকরো বহু বছর অবিস্ফোরিত পড়ে থাকে। আর শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। এ ছাড়া ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার বন্ধে আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলার পক্ষে কানাডা।






















