আজ ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

রাশিয়ার বিদ্রোহের কোনো বীর নেই: লুকাশেঙ্কো

  • In আন্তর্জাতিক
  • পোস্ট টাইমঃ ৭ জুলাই ২০২৩ @ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৭ জুলাই ২০২৩@১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
রাশিয়ার বিদ্রোহের কোনো বীর নেই: লুকাশেঙ্কো

।।ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক।।

রাশিয়ায় ওয়াগনার বিদ্রোহ অবসানের চুক্তিতে মধ্যস্ততা করেছিলেন বেলারুশের নেতা আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো। সম্প্রতি তিনি রাজধানী মিনস্কের প্যালেস অব ইন্ডিপেন্ডেন্স (স্বাধীনতা প্রাসাদে) আলাপচারিতার জন্য সাংবাদিকদের ছোট একটি দলকে আমন্ত্রণ জানান। ওই দলে ছিলেন ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির সদস্যরাও। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা আলাপচারিতায় পারমাণবিক অস্ত্রসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেছেন লুকাশেঙ্কো।

ওয়াগনার গ্রুপ ও ক্রেমলিনের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী, কিছু যোদ্ধার সঙ্গে ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের বেলারুশ চলে যাওয়ার কথা। তবে সেটা ঘটেনি, অন্তত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত না। বেলারুশ নেতা লুকাশেঙ্কো বলেন, ‘আজ সকাল পর্যন্ত ওয়াগনার যোদ্ধারা, খুবই গুরুত্বপূর্ণরাসহ সেই ক্যাম্পে আছে যেখানে তারা বাখমুত থেকে প্রত্যাহারের পর ছিল। আর ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের ক্ষেত্রে, তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গে আছেন। কিংবা সম্ভবত আজ সকালে তিনি মস্কো উড়াল দিয়েছেন। কিংবা অন্য কোথাও। কিন্তু তিনি বেলারুশ নেই।’ তার অর্থ কি চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হলে লুকাশেঙ্কো তা অস্বীকার করেন।

কয়েক সপ্তাহ আগে লুকাশেঙ্কোর স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন উঠলেও দীর্ঘ আলাপচারিতায় তাকে সবল দেখা যায়। বিদ্রোহ নিয়ে আলাপচারিতায় দেখা যায় মিনস্ক ও মস্কোর অবস্থান একই জায়গায় নেই। গত সপ্তাহে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক ঘোষণায় বলা হয়, এসব নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ থেকে বীর হিসেবে উঠে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

লুকাশেঙ্কো বিবিসিকে বলেন, ‘আমার মনে হয় ওই অবস্থা থেকে কেউ বীর হিসেবে উঠে আসেননি। প্রিগোজিন নয়, পুতিন নয়, লুকাশেঙ্কো নয়। কোনো বীর ছিল না। আর এ থেকে শিক্ষা কী? আমরা যদি এরকম সশস্ত্র গ্রুপ তৈরি করি, তাহলে তাদের ওপর এক চোখ রাখা প্রয়োজন এবং তাদের ওপর গুরুতর মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।’

আলোচনা পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে ঘুরে যায়। বিশেষ করে রাশিয়া বলেছে তারা বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্র সরিয়ে নিচ্ছে। সেসব অস্ত্রের বিষয়ে আলোচনায় লুকাশেঙ্কো সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ঈশ্বর রক্ষা করুন, আমাকে যেন কখনো সেগুলো ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে না নয়। তবে আমি সেগুলো ব্যবহারে কোনো দ্বিধা করবো না’।

সেই বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে লুকাশেঙ্কো জবাবে বলেন, ‘জো বাইডেনও একই কথা বলতে পারে, ঋষি সুনাকও পারেন। আর আমার বন্ধু শি জিনপিং এবং আমার বড় ভাই প্রেসিডেন্ট পুতিনও পারেন।’ ‘তবে এসব অস্ত্র বেলারুশের নয়, রাশিয়ার। আর এটা গ্রহণের সিদ্ধান্তও আপনি নেননি,’ স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে বেলারুশ নেতা বলেন, ‘ইউক্রেনে একটা পুরো সেনাবাহিনী বিদেশি অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করছে, ঠিক কিনা। ন্যাটোর অস্ত্র। কারণ তাদের নিজেদের অস্ত্র শেষ হয়ে গেছে। তাহলে আমি কেন অন্য কারো অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করতে পারবো না?’

বিবিসির পক্ষ থেকে লুকাশেঙ্কোকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়, ‘আমরা পিস্তল নিয়ে নয়, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কথা বলছি’। জবাবে লুকাশেঙ্কো বলেন, ‘পারমাণবিক, হ্যাঁ। সেগুলোও অস্ত্র। কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র।’

উল্লেখ্য, আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোকে বেলারুশের বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকার করে না যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে মিনস্কের রাস্তায় নামে লাখ লাখ মানুষ। সেই বিক্ষোভ দমন করা হয়।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights