আজ ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

চাহিদার চেয়ে ২১ লাখের বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত

  • In শীর্ষ
  • পোস্ট টাইমঃ ১৪ জুন ২০২৩ @ ০৭:০২ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১৪ জুন ২০২৩@০৭:০২ অপরাহ্ণ
চাহিদার চেয়ে ২১ লাখের বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত
ছবি- ফাইল ছবি

।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।

এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য চাহিদার চেয়ে ২১ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে পশু আমদানির কোন প্রয়োজন নেই। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও শতভাগ দেশি পশু দিয়ে কোরবানি সম্পন্ন করা যাবে। পাশ্ববর্তী দেশ থেকে যাতে সীমান্ত পথে অবৈধভাবে গবাদিপশু আসতে না পারে সে জন্য কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য আমাদের চাহিদা ১ কোটি ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৯টি পশু। আর প্রস্তুত রয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩টি পশু। সেই হিসেবে ২১ লাখ ৪১ হাজার ৫৯৪টি পশু উদ্ধৃত্ত রয়েছে। তিনি বলেন, কোরবানি সামনে রেখে কোন প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য, স্টেরয়েড হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যতিত নিরাপদ পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে এ বছরও স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পশু খাদ্যে ভেজাল বা নিষিদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিক ও হরমোনের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত সার্ভিল্যান্স ও প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

তিনি জানান, কোনো খামারি নিজ বাড়ি থেকে পশু বিক্রি করলে তাকে হাসিল দিতে হবে না। কোন খামারি তার পশু দূরবর্তী হাটে নিতে চাইলে, রাস্তাঘাটে জোর করে নামাতে বাধ্য করা যাবে না। এক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় সরকার ইউনিট তথ্য পৌরসভা, উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি করপোরেশনে বিষয়টি নিশ্চিত করবে। হাট ছাড়া পথে বা অন্য কোথাও পশু বিক্রি করলে তার কাছে চাঁদা বা হাসিল আদায় করা যাবে না। তিনি বলেন, কোরবানির হাটে এ বছর কোনভাবেই রোগাক্রান্ত বা অসুস্থ পশু বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্যে গত বছরের মতো এবারও সারাদেশে পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে। ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিম এবং বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম গঠন করা হবে। গত বছর সারাদেশে ৩ হাজার ১৯৫টি কোরবানির পশুর হাটে দায়িত্ব পালনের জন্য ১ হাজার ৬২৩টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, এ বছরও সড়কপথ, রেলপথ এবং নৌপথে গবাদিপশু পরিবহনের সময় পশু ও পশু বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ কোরবানির পশুর ট্রাক ছিনতাই রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর যৌথভাবে কাজ করবে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গবাদিপশু কোরবানির জন্য কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণ বিষয়ে ৩১ হাজার ৭৯৯ জন পেশাদার ও অপেশাদার কসাইকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বিগত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গবাদিপশু বিক্রয় কার্যক্রম চলবে। এক্ষেত্রে অনলাইনে প্রতারণা রোধে অনলাইনে আপলোডকৃত পশুর মালিকের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, পশুর বয়স, ওজন, মূল্য ও ছবি সংযোজন করতে হবে। অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে পশু বুঝে পাওয়ার মূল্য পরিশোধ করতে হবে যাতে এক পশু দেখিয়ে অন্য পশু দিতে না পারে।

মন্ত্রী জানান, এবছর কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মধ্যে ৪৮ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫২টি গরু-মহিষ, ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ছাগল ভেড়া এবং ২ হাজার ৫৮১টি অন্যান্য প্রজাতির গবাদিপশু রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮ লাখ ১৫ হাজার ৪৫৪টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ লাখ ৫৩ হাজার ১২৮টি, রাজশাহী বিভাগে ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৬১৪টি, খুলনা বিভাগে ১৫ লাখ ১১ হাজার ৭০৮টি, বরিশল বিভাগে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ২০৬ট, সিলেট বিভাগে ৪ লাখ ১০ হাজার ২২৫টি, রংপুর বিভাগে ১৯ লাখ ৬২ হাজার ৯৫১টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৭টি কোরবনিযোগ্য গবাদিপশু রয়েছে।

২০২২ সালে কোরবানিরযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি। কিন্তু কোরবানি হয়েছিলো ৯৯ লাখ ২১ হাজার ৯৪১টি। সেই হিসাবে এবার কোরবানি বাড়লেও পশুর সংকট হবে না বলে জানান মন্ত্রী।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights