আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সারাদেশের ন্যায় তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ ঠাকুরগাঁওবাসী

  • In সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ৩ জুন ২০২৩ @ ০৫:৩০ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৩ জুন ২০২৩@০৫:৩৪ অপরাহ্ণ
সারাদেশের ন্যায় তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ ঠাকুরগাঁওবাসী

স্টাফ রিপোর্টার:

তীব্র দাবদাহে অতিষ্ঠ সারাদেশের মানুষ। গরমে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জিবন ও জীবিকা। গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ ঠাকুরগাঁও জেলা, রাণীশংকৈলে দিনের প্রখর সূর্যের তাপ আর তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিন থেকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ উঠানামা করছে।

প্রচন্ড গরমে সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষেরা পড়েছেন ভীষণ দুর্দশায়। তাপমাত্রা জনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের রোগে। সরজমিনে দেখা যায়, টানা কয়েক দিন ধরে প্রখর রোদের কারণে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে রোদের তীব্র দাবদাহের কারণে দিনমজুর, রিকশাচালক, কুলি ও ভ্যানচালকরা কাজ করতে পারছে না। ফলে তীব্র তাপদাহে অনেকেই অলস সময় পার করতে হচ্ছে। আবার অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে কাজে বেড়িয়েছেন। কিন্তু গরমের তীব্রতার কারণে শূন্য হাতে ফিরছেন ঘরে। ফলে অসহায় দিন আর অভাব পিছু ছাড়ছে না।

তীব্র গরমে বয়স্ক, শিশুরা পড়েছে সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে। একটু স্বস্তি পেতে ঠান্ডা শরবত, পানি, আইসক্রীম কিংবা কোমল পানীয় পান করে তৃষ্ণা মেটানোর বৃথা চেষ্টায় সাধারণ মানুষেরা। একটু শীতলতার জন্য শিশু-কিশোর সকলেই পুকুর-নদী, বিলে ছোটাছুটি করছে।

অসহনীয় প্রচন্ড রোদ আর গরমে গ্রামাঞ্চল কিংবা শহরে শিশু, বয়স্কদের জ্বর-সর্দি, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাপের কারণে নানা বয়সিদের দেখা দিয়েছে চর্ম রোগও। তীব্র তাপদাহে কয়েকদিন থেকে উপজেলার পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে দিনের বেলায় মানুষের সমাগম কিছুটা কমেছে। প্রচন্ড গরমে কিছু কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে দুপুরে বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। প্রচন্ড তাপদাহ থেকে একটু স্বস্তি পেতে কেউ কেউ গাছের তলে বাঁশের টং বানিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। অনেকে আবার ঘনঘন ঠান্ডা পানিতে গোসল করছেন।

উপজেলার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক দিন প্রচন্ড তাপদাহের কারণে ঠিকমতো কাজে যেতে পারছেন না। গরমে কাজ করতে না পেয়ে আয় কমে গেছে। আগে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করা যেত। এখন প্রচন্ড গরমের কারণে সারা দিনে ৩০০ টাকা আয় করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে অভাব অনটনে দিন কাটছে তাদের।

আরো অনেকেই জানান, প্রচন্ড গরম পড়েছে। বাচ্চা নিয়ে খুবই সমস্যায় আছি। ঘরের মধ্যে থাকা যায় না। শরীর জ্বলে ও ঘামে ভেজা শরীরে কোন কাজই হচ্ছে না। এদিকে, প্রচন্ড তাপদাহের কারণে কোমলমতি শিক্ষাথীরা বিদ্যালয় হতে বাড়ি ফেরার পর খুব ক্লান্ত অনুভব করছে। মাঠঘাট শুকিয়ে যাচ্ছে। চারিদিকে শূন্যতা।

অতিরিক্ত তাপদাহর বিষয়ে রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাক্তার ফিরোজ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- অধিক তাপমাত্রার কারনে রানীশংকৈল হাসপাতালে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও এজমার প্রচুর রোগী ভর্তি হয়েছে। আমরা সঠিক পরীক্ষা করে সবার চিকিৎসা দিচ্ছি। চিকিৎসার কোন ত্রুটি নেই সব রোগের চিকিৎসার হচ্ছে সুষ্ঠভাবে। রানীশংকৈল হাসপাতালে ৫০শয্যা বিশিষ্ট হলেও রোগী ৯০জন ভর্তি আছেন। তিনি আরো বলেন- এটাই বাস্তবতা, মেনে নিতেই হবে। তিনি সবাইকে বেশিবেশি পানি পান করার পরামর্শ দেন।

এমকে/তারিখ:০৩০৬২৩/১৭:৩১

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights