আজ ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ এবং ১৫ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

রংপুরে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুদিন উপলক্ষে ৩ দিন ব্যাপি মেলা

  • In সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ @ ০১:১৮ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৯ ডিসেম্বর ২০২৩@০১:১৮ অপরাহ্ণ
রংপুরে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুদিন উপলক্ষে ৩ দিন ব্যাপি মেলা

।।রংপুর ব্যুরো।।

প্রতি বছরের ৯ ডিসেম্বর মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুদিন হিসাবে পালিত হয়। নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া ১৮৮০ সালের এই দিনে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। নারীদের প্রথম আলোর পথ দেখান রোকেয়া, তাই এই দিনটি ঘিরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে থাকে।

বাবা জহির উদ্দিন মুহম্মদ আবুল আলী হায়দার সাবের, মা রাহাতুন্নেছা চৌধুরানি। বেগম রোকেয়ার ছিল দুই ভাই ও দুই বোন। বড় ভাই ইবরাহিম সাবের ছিলেন একজন প্রগতিশীল মানুষ। অগোচরে মোমের আলোয় বেগম রোকেয়া ও আরেক বোন করিমনুন্নেছাকে বর্ণ শিক্ষা দিতেন। আর রোকেয়ার ছিল জানার ও শিক্ষার অদম্য আগ্রহ।

১৮৯৬ সালে ১৬ বছর বয়সে বেগম রোকেয়ার বিয়ে হয় ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট খান বাহাদুর সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। রোকেয়া পেলেন আরেকজন প্রগতিশীল মানুষের সাহচর্য। স্বামী সাখাওয়াত হোসেন বেগম রোকেয়ার লেখাপড়ার প্রতি অকুণ্ঠ আগ্রহ দেখে তাকে সাহায্য করতে লাগলেন বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে এবং তার লেখা-লেখিতে সাহায্য করতে লাগলেন।

এই শিক্ষাই তাকে সে সময়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন জীবন, শিক্ষাহীন নারী সমাজের মুক্তির কথা। নারীদের অশিক্ষার অন্ধকার থেকে কী করে তাদের টেনে তোলা যায়, সে ভাবনা থাকতো তার মাথায়। আর তাই তো তিনি স্বপ্ন দেখলেন একটি স্কুলের। যেখানে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীরা লেখাপড়া শিখবে। আর তার এ স্বপ্নকে আরও বড় করে তোলেন তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন।

১৯০২ সালে ‘পিপাসা’ নামে একটি বাংলা গল্প লিখে সাহিত্যের জগতে প্রবেশ। আর ১৯০৫ সালে রোকেয়া ইংরেজিতে লিখলেন তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সুলতানাস ড্রিমস’। সাখাওয়াত হোসেন লেখাটি পড়ে অভিভূত হয়ে পড়েন এবং তাকে উৎসাহ দেন লেখাটি বই আকারে প্রকাশ করার জন্য।

১৯০৮ সালে সুলতানাস ড্রিমস বই আকারে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে বইটি বাংলায় ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে রূপান্তরিত হয়েও প্রকাশিত হয়। এই বইটিকে বিশ্বের নারীবাদী সাহিত্যে একটি মাইল ফলক হিসেবে গণ্য করা হয়। তার অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো ‘অবরোধবাসিনী’, ‘মোতিচুর’, ‘পদ্মরাগ’।

বেশ ঘটা করেই প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর দিনটিতে বেগম রোকেয়াকে স্মরণ করা হলেও তার জন্মভূমিতে গড়ে ওঠা স্মৃতি কেন্দ্রের কার্যক্রম আজও চালু হয়নি। সেইসঙ্গে বেগম রোকেয়ার পরিবারের বেহাত হয়ে যাওয়া প্রায় সাড়ে ৩শ বিঘা জমি উদ্ধারসহ রোকেয়ার দেহাবশেষ ফিরিয়ে এনে বাস্তুভিটায় সমাহিত করার দাবিও পূরণ হয়নি আজ অবধি।

বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, বেগম রোকেয়ার সাড়ে তিন শ বিঘা জমি বেদখল হয়ে আছে। কিছু জমিতে তার নামে প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ জমিগুলো উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা উচিত।

বেগম রোকেয়ার ভাই মসিহুজ্জামান সাহেরের মেয়ে পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষিকা রণজিনা সাবের বলেন, একটি দিনই মাত্র ঘটা করে বেগম রোকেয়াকে স্মরণ করা হয়। বেগম রোকেয়ার প্রকৃত ইতিহাস ও কর্মময় জীবনী নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে স্মৃতি কেন্দ্রের কার্যক্রম চালু করা উচিত।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্বপ্ন ছিল সমাজে নারী-পুরুষ সমান মর্যাদা আর অধিকার নিয়ে বাঁচবে। সেই স্বপ্নের কথাই তিনি লিখে গেছেন তার গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধগুলোতে। নারীশিক্ষার প্রসারে কাজ করে গেছেন আমৃত্যু। নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, তাদের ক্ষমতায়ন, ভোটাধিকারের জন্য লড়াইটা এই বাংলায় রোকেয়াই শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৩২ সালের এই দিনেই মারা যান তিনি। দিনটি রোকেয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকার রোকেয়ার স্মৃতিবিজড়িত পায়রাবন্দে তাঁর বাড়িসংলগ্ন তিন একর জমিতে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। শুরুর দিকে সেখানে রোকেয়াকে নিয়ে কিছু গবেষণাধর্মী কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পরে স্মৃতিকেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাঁর বসতভিটার সাড়ে ৩০০ বিঘা জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দখলকারীদের কোনো তালিকাও নেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার সোদপুর থেকে রোকেয়ার দেহাবশেষ রংপুরের পায়রাবন্দের মাটিতে সমাহিত করার দাবি জানানো হলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

বেগম রোকেয়া দিবসে রংপুরে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। তার জন্মস্থান মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন হয়ে থাকে। সকাল ১১ টায় আলোচনা সভা ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights