নজরুল ইসলাম দয়া
বগুড়া প্রতিনিধি।।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির টানা চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা। ১৭ বছর পর তিনি ভোটের মাঠে ফিরছেন। সাবেক এই সাংসদ নির্বাচনে আসছেন জেনে তার পুরানো কর্মী-সমর্থকদের মাঝে চাঙ্গভাব লক্ষ্য করা গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিএনপির সাবেক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জিয়াউল হক মোল্লা।
বুধবার (২৯ নভেম্বর) তিনি কাহালু উপজেলা সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মেরিনা আফরোজের নিকট মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ভোটাররা বলছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেকারণে দলটির কর্মী-সমর্থকরাও নির্বাচন বিমুখ ছিলেন।
বিএনপি-জামায়াতের শক্তিশালী এলাকা হিসেবে পরিচিতি বগুড়ার এই আসনে জিয়াউল হক মোল্লা প্রার্থী হবেন জেনে দলটির পুরানো কর্মী-সমর্থক এবং ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী আগ্রহ ফিরেছে।
এই আসনের নির্বাচনে পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব-নিকাশ। নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলা নিয়ে গঠিত ৩৯ বগুড়া-৪ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫১১ জন। এরমধ্যে নন্দীগ্রাম উপজেলার ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪ জন এবং কাহালু উপজেলার ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৪৭ জন।
প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, জিয়াউল হক মোল্লার গ্রামের বাড়ি কাহালু উপজেলার দেওগ্রামে। তিনি বগুড়া শহরের মালতিনগরে বসবাস করেন। তার পিতা আজিজুল হক মোল্লা বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুর ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ডা. জিয়াউল হক মোল্লা। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আজিজুল হক মোল্লা ৪৩ হাজার ২৪৭ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুর রহমান ফকির পেয়েছিলেন ৩৪ হাজার ৩৭২ ভোট এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহীদুল আলম দুদু পেয়েছিলেন ৩১ হাজার ১৯২ ভোট।
আজিজুল হক মোল্লার মৃত্যুর পর ১৯৯৪ সালের উপ-নির্বাচনে তার ছেলে জিয়াউল হক মোল্লা এমপি নির্বাচিত হয়। এরপর তিনি ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে ৬৪ হাজার ১৪১ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শহীদুল আলম দুদু পেয়েছিলেন ৩৮ হাজার ৩৯৫ ভোট এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজির আহমেদ মন্ডল পান ৩২ হাজার ৬২৫ ভোট।
১৯৯৬ সালে বিরোধী দলগুলোর তীব্র আন্দোলন ও বয়কটের মুখে পুনরায় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বগুড়া-৪ আসনে এমপি হন জিয়াউল হক মোল্লা। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮১৪ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহীদুল আলম দুদু পেয়েছিলেন ৭২ হাজার ৪৬৪ ভোট। ২০০৭ সালে বিএনপিতে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হলে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি পান জিয়াউল হক মোল্লা।
২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পান ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী মুকুল। তিনি ১ লাখ ৩১ হাজার ৪১৪ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। মহাজোট প্রার্থী জাসদের একেএম রেজাউল করিম তানসেন পেয়েছিলেন ৭৫ হাজার ৯৯১ ভোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় মহাজোট প্রার্থী রেজাউল করিম তানসেন ২২ হাজার ২০৩ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নুরুল আমিন বাচ্চু পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৪৮৯ ভোট।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মহাজোটের প্রার্থী রেজাউল করিম তানসেন পেয়েছিলেন ৮৪ হাজার ৬৭৯ ভোট। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দলীয় সিদ্ধান্তে পদত্যাগ করেন বিএনপির সাংসদ মোশারফ। চলতি ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া-৪ আসনে উপ-নির্বাচন হয়। জাসদের রেজাউল করিম তানসেন ২০ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম (হিরো আলম) পেয়েছিলেন ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট, জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক ৬ হাজার ৪৪৬ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল পেয়েছিলেন ১০ হাজার ৪৪২ ভোট।






















