মিঠু মুরাদ
স্টাফ রিপোর্টার।।
ভারত, ভুটান আর নেপালের সাথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য ব্যবসায়িদের অন্যতম রোড হচ্ছে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর। তবে ডলার- সংকট আর টানা হরতাল-অবরোধে অস্থিরতার কারণে এ স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যে ভাটা পড়েছে। কমেছে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব আদায়। এমন অবস্থায় আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমদানির লক্ষ্যে তফসিলি ব্যাংক থেকে পণ্যের মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদানে প্রত্যয়নপত্র বা লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। কয়েক মাস আগে চাহিদা অনুযায়ী আমদানি পণ্যের মূল্যের ২০% থেকে ২৫% নগদ অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে, ব্যাংক পুরো অর্থ পরিশোধের দায় নিয়ে আমদানিকারককে প্রত্যয়ন দিত। পণ্য এনে (আমদানি) বিক্রি করে শর্তানুযায়ী অবশিষ্ট টাকা ব্যাংকে জমা দিতেন আমদানিকারকেরা। কিন্তু এ সুযোগ এখন দিচ্ছে না ব্যাংকগুলো।
ব্যবসায়ীরা দাবি করে বলেন, ব্যবসা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো ডলার-সংকট। চাহিদা অনুযায়ী ডলারের অভাবে এলসি না পাওয়ায় ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার যে ডলারের দরে পণ্য আমদানি করা হলো, পরবর্তীকালে ডলারের দর বৃদ্ধির কথা বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা নেয়।
এতে পণ্য আমদানি করে লাভ নয় বরং ক্ষতি হচ্ছে। এ কারণে অনেক আমদানিকারক পণ্য আমদানি না করায় ব্যবসায় ধস নেমেছে।
এদিকে রাজনৈতিক সহিংস অস্থিরতায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করতে রাজি নন অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানিকারক।
অপরদিকে চালকেরাও দূরদূরান্তে পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ে যেতে ও আনতে নিরাপত্তার শঙ্কায় গাড়ি চালাতে অনীহা জানানোয় কমেছে গাড়ির সংখ্যা।
বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেটার্স স্বত্বাধিকারী সবুজ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি মুলত দায়ী।’ ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার-সংকট। তা ছাড়া ডলারের দর ঠিক নাই। একেক ব্যাংকে একেক দর, ব্যবসায় লস হচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, পাটগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক আখতারুল ইসলাম বলেন, ডলার সংকটের কারনে ছোট ছোট এলসিদের প্রাইভেটি দিচ্ছি। এবং ‘অ্যাভেইলেবল (সহজে) এলসি দেওয়া হচ্ছে না। পণ্যের গুরুত্ব ও চাহিদা বুঝে। নির্দেশনা রয়েছে ৭৫% নগদ ক্যাশে ও ল্যাক্সারী (সৌন্দর্যবর্ধক) পণ্যে শতভাগ নগদ টাকা দিয়ে এলসি দিতে। তাছাড়া আমরা যখনই এন্ট্রি দিবো, তখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও কাস্টমস্ দেখতে পাবে। নির্দেশনার বাইরে অন্য কিছু করার সুযোগ নেই।’
বুড়িমারী শুল্ক স্টেশন (কাস্টমস্) সূত্র জানায়, ডলারের সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় এ শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কমেছে। গত ১ অক্টোবর হতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ভারত ও ভুটান থেকে পাথর আমদানিকৃত গাড়ির সংখ্যা ৪ হাজার ২৩৬টি ও খাদ্যশস্যের (ভুট্টা) গাড়ি এসেছে ১১৫ টি। রাজস্ব হয় হয়েছে ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। রাজনৈতিক অস্থিরতা তথা অবরোধ এবং হরতালের কারণে চলতি নভেম্বর মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত পাথর ৩ হাজার ৬৫৫ গাড়ি এবং ৪৮ টি খাদ্যশস্যের (ভুট্টা) গাড়ি এসেছে। রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ। রাজস্ব কম আয় হয়েছে দেড়কোটি টাকা।
বুড়িমারী শুল্ক স্টেশন (কাস্টমস্) উপকমিশনার (ডিসি) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের কাছ হতে জেনেছি ব্যাংক গুলো এলসি দিচ্ছে না। কিছু এলসি নিলেও শতভাগ নগদ টাকা নিয়ে দিচ্ছে। এলসি না হলে তো ব্যবসা হবে না। ডলার সংকট আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা কমেছে।’






















