আজ ২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ এবং ১৯শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

অনিয়মের বিরুদ্ধে অফিস আদেশ জারির পর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে দলিল লেখকরা

  • In সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ১২ নভেম্বর ২০২৩ @ ০৬:৫০ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১২ নভেম্বর ২০২৩@০৬:৫০ অপরাহ্ণ
অনিয়মের বিরুদ্ধে অফিস আদেশ জারির পর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে দলিল লেখকরা

জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল
জামালপুর প্রতিনিধি।।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে কর্মরত নবাগত সাব-রেজিষ্ট্রার আব্দুর রহমান মুহাম্মদ তামিম নানা ঘুষ কেলেংকারী ও অনিয়ম প্রতিরোধে জনগণের কল্যানে অফিস আদেশ জারির ৭২ ঘন্টা পর বকশীগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের দলিল লেখকরা কর্ম বিরতীর ঘোষনা দিয়েছেন।

রবিবার (১২ নভেম্বর) সকাল থেকে তারা কর্ম বিরতী পালন করে আসছেন।

জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে দীর্ঘ দিন যাবৎ নানা দুর্নীতি চলে আসছিলো। সাব-রেজিষ্ট্রারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতি দলিলে ২/৩ হাজার করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আসছিলো। চাপের মুখে জমি ক্রেতারাও টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

বকশীগঞ্জের বর্তমান সাব-রেজিষ্ট্রার আব্দুর রহমান মুহাম্মদ তামিম অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখে বকশীগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই অফিসের নানান অনিয়মের বিষয়ে সর্তক হতে বলেন। কিন্তু পূর্বেকার অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় ৯ নভেম্বর তিনি লিখিত একটি অফিস আদেশ জারি করেন। বকশীগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের ৯ নভেম্বরের ৪৪৯ (২) নং স্বারকমূলে ওই আদেশ জারি হয়।

অফিস আদেশে বলা হয় দলিল লেখক সমিতির নামে সেবা গ্রহিতার কাছে কোন প্রকার চাদাঁ নেওয়া যাবে না, এস আরও নং ২১৯ আইন /৯৪/১৯ম-১২/৯০, তারিখ ২০জুন ১৯৯৪ এবং এসআরও নং ১৬৮ আইন ২০০২ অনুযায়ি দলিল লেখকগনের প্রতি ৩০০ শব্দ বা তার অংশ মুসাবিদের জন্য ১৫ টাকা, মুসাবিদা হতে দলিল লিখক ও রেজিষ্ট্রেরি বিষয়ে যাবতীয় সহায়তা কল্পে প্রতি ৩০০ শব্দ বা তার অংশ বিশেষেরে জন্য ১০ টাকা, স্বরণ শক্তি হতে দলিল লিখন ও তার রেজিষ্ট্রেরি বিষয়ে যাবতীয় সহায়তা কল্পে প্রতি ৩০০ শব্দ বা তার অংশ বিশেষের জন্য ১৫ টাকা, অফিসের কোন কর্মচারী যদি সরকার নির্ধারিত ফিসের বাইরে সেবা গ্রহিতার নিকট যদি অতিরিক্ত টাকা নেন তা হলে প্রমান সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, দলিল মুসাবিদা করার সময় দলিল লিখকগণ সেবা গ্রহিতার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছেন তার রশিদ সরবরাহ করবেন যাতে জনগণের কাছে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোন অভিযোগ না থাকে,দলিল লেখকের সনদ নবায়নের জন্য গত বছর কোন দলিল লেখক তকটি দলিল করেছেন তার হিসাব ছায়ালিপিসহ অফিসে জমা দিতে হবে ও দলিল মুসাবিদা করার সময় ১৯০৮ সালের রেজিষ্ট্রেশন আইনসহ অন্যান্য আইন মেনে সকল কাগজপত্র দাখিল করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

অফিস আদেশ জারির পর থেকেই দলিল লেখক সমিতির নেতারা বিভিন্নভাবে সাব-রেজিষ্ট্রারকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনভাবেই অফিস আদেশ প্রত্যাহার বা সরকারী নীতিমালার বাইরে কোন কাজ করতে নারাজ নবাগত সাব-রেজিষ্ট্রার আব্দুর রহমান মুহাম্মদ তামিম। ফলে দলিল লেখকরা তার বিরুদ্ধে ক্ষেপে যান। দলিল লেখকরা অফিস আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ১২ নভেম্বর কর্মবিরতীর ঘোষনা দেন। লিখিত ঘোষনাপত্রে সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখকগণ সাব-রেজিষ্ট্রার আব্দুর রহমান মুহাম্মদ তামিমের বিরুদ্ধে সনদ প্রাপ্ত দলিল লেখকদের সাথে অশালিন আচরণ করার অভিযোগ করেন। দলিল লেখকরা জানান সাব-রেজিষ্ট্রার আব্দুর রহমান মুহাম্মদ তামিম মানষিক ভারসাম্যহীন ব্যাক্তি। তাই দলিল লেখক ও জনসাধারণের সাথে অশালীন আচরণ করে থাকে। বকশীগঞ্জ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির প্যাডে তারা লিখিতভাবে সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে কর্মবিরতীর ঘোষনা দেন। ঘোষনাপত্রে স্বাক্ষর করেন বকশীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ফিরোজ সরকার।

এব্যাপারে বকশীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ফিরোজ সরকার জানান, নবাগত সাব-রেজিষ্ট্রার আব্দুর রহমান মুহাম্মদ তামিমকে বকশীগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রার অফিস থেকে বদলী বা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

সাব-রেজিষ্ট্রার আব্দুর রহমান মুহাম্মদ তামিম জানান, সরকারী নীতিমালা মেনেই অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। অফিস আদেশ প্রত্যাহার বা অফিস আদেশের বাইরে কোন কাজ করার সুযোগ নেই। জনসাধারণের কল্যানার্থে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। আমি সরকারের চাকুরি করি। সরকারী নীতিমালা মানতে আমি বাধ্য। কোন দুনীতির কাছে আমি মাথা নত করবোনা।

এব্যাপারে জেলা সাব-রেজিষ্ট্রার( ডিআর) জহুরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অফিসিয়ালভাবে জেনে সরকারী নীতিমালানুয়ায়ি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারী নীতিমালার বাইরে কোন কাজ করার সুযোগ নেই।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights