মিঠু মুরাদ
স্টাফ রিপোর্টার।।
লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ ( সওজ) বিভাগের অধীনে সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মেরামতকালেই সংস্কার করা সড়কের পাথর উঠে যাচ্ছে।
পথচারীরা পা দিয়ে ঘষে সদ্য নির্মাণাধীন সড়কের পাথর তুলে ফেলছে। প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ, কত কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে, বিটুমিনের পরিমাণ, কত টাকা বরাদ্দ, ঠিকাদারই বা কে, কোন পাথর ব্যবহার করা হবে তার কিছুই জানানো হচ্ছে না কাউকে। প্রকল্প এলাকায় সাইন বোর্ড দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তার কোনো গরজ মনে করে না সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এমনকি সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছেও এই সাইন বোর্ড টানিয়ে দেয়ার কোনো গুরুত্ব আছে বলে মনে হয় না। ফলে অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে সব কিছু। এভাবে সড়ক মেরামতের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হচ্ছে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাটগ্রাম পৌর শহর থেকে দহগ্রামগামী সড়কের বাবুরকামাত থেকে পানবাড়ি বোচারহাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক ও লালমনিরহাট বুড়িমারী আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সংস্কার করা হচ্ছে। এই সংস্কার বলতে পূর্বের যে সড়ক আছে সেই সড়কে ছোট পাথরের সাথে বিটুমিন মিশিয়ে ওপরে বিছিয়ে রোলার দিয়ে কমপ্যাক্ট করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিকাদারের লোকজন ময়লাযুক্ত সিঙ্গেল পাথরের সাথে নির্মানের নামমাত্র বিটুমিন মিশিয়ে সংস্কার কাজ করছেন।
ফলে নির্মাণকালেই পাথর রাস্তা থেকে সরে যাচ্ছে। সড়ক দিয়ে ট্রাক মাইক্রবাস রিকশা ভ্যানসহ চলন্ত যানবাহন চলাচলে পাথর ছিটকে দূরে পড়ছে। এমনকি কারো চোখে মুখে পড়ছে। একজন পথচারী তার পা দিয়ে ঘষে প্রায় সব পাথর সরিয়ে দিয়েছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো সড়কটির যেসব স্থান নষ্ট বা গর্ত হয়েছে সেসব স্থানের গর্ত গর্তই রয়ে গেছে। এসব স্থান পাথর দিয়ে পূরণ করে দেয়ার কোনো গরজই মনে করেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। সাধারণ মানুষ বেশ ক্ষোভের সাথেই বললেন এভাবে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করে কারা লাভবান হচ্ছে। আর অপ্রয়োজনীয় স্থানে কেনইবা এভাবে টাকা অপচয় করা হচ্ছে।
বাউরা বাজারের অটো ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, লালমনিরহাট-বুড়িমারী সড়কে বাউরা মেচের ঘাটে যে কাজ হচ্ছে তা ঝাড়– দিয়ে ঝাড় দিলেই তাৎক্ষণিক পাথর উঠে যাবে। তার মতে আগের রাস্তার ওপরে এসব গুঁড়া পাথর দেয়ার কোনো মানে হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমিনুল হক (প্রা: লি:) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প কাজে দায়িত্বরত লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী (এসও) প্রকৌশলী আলমগীর হোসেনের সাথে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।





















