।।ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক।।
গাজা উপত্যকায় বড় আকারের স্থল আগ্রাসনের আশঙ্কা বাড়ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি উপত্যকাটিকে ‘মরু দ্বীপ’ বানিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়ে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
এর আগে হামাসের বন্দুকধারী শত শত সদস্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। বিভিন্ন শহর ও গ্রামে চালানো হামলায় তিন শতাধিক ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। এছাড়া বহু ইসরায়েলি সেনা ও নাগরিককে আটক করা হয়েছে। ৫০ বছর আগে ইয়োম কাপুর যুদ্ধের পর এটাই ইসরায়েলের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক জবাবে গাজায় হামলা চালিয়েছে। অবরুদ্ধ উপত্যকার ২৩০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ইসরায়েলি বাহিনী এখনো বোমা বর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে হামাসের বন্দুকধারীরা দক্ষিণ ইসরায়েলের কয়েকটি অংশে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। রবিবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই।
হামাস বলছে, আকাশ, নৌ ও স্থল পথে তাদের এই নজিরবিহীন অভিযানের কারণ পবিত্র আল-আকসা মসজিদের অমর্যাদা এবং দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলিদের সহিংসতা। এসবের মধ্যে রয়েছে গাজায় ১৬ বছরের অবরোধ, গত বছর পশ্চিম তীরের শহরে ইসরায়েলি হামলা, ফিলিস্তিনিদের উপর দখলদারদের হামলা বৃদ্ধি এবং অবৈধ দখলদার বেড়ে যাওয়া।
হামাসের সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ ডেইফ বলেন, শত্রুদের বোঝার সময় এসে গেছে…তারা পরিণতি ছাড়া পার পেয়ে যাবে না। হামাস নেতারা বলেছেন, গাজায় যে হামলা শুরু হয়েছে তা দখলকৃত পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেমেও ছড়িয়ে পড়বে।
হামাসের রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান সালেহ আল আরুরি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাসহ বহু সংখ্যক ইসরায়েলিকে বন্দি রেখেছেন তারা। তিনি জানান, ইসরায়েলের কারাগার থেকে সব ফিলিস্তিনিকে মুক্ত করার মতো বন্দি এখন তাদের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বহু ইসরায়েলি সেনাকে আটক ও হত্যা করতে সক্ষম হয়েছি।
বিশ্ব নেতারা ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানালেও অনেক পর্যবেক্ষক আশঙ্কা করছেন, গাজায় একটি বড় স্থল হামলার কাজ চলছে।
জেরুজালেম পোস্টের সামরিক বিশ্লেষক ইয়োনাহ জেরেমি বব বলেছেন, ‘একটি দ্বিতীয় ঘটনা ঘটতে চলেছে এবং তা হল গাজা আক্রমণ, এবং আমার মনে হয় ২০১৪ সালের চেয়েও বড় হতে যাচ্ছে। ওই সময় ইসরায়েল ৮০ হাজার রিজার্ভ (সেনা) ডেকেছিল।’ তিনি বলেন, এক বা দুই দিনের মধ্যে, ইসরায়েলের এক ব্যাপক শক্তি থাকবে যা গাজায় হামাস বাহিনীকে পরাস্ত করতে সক্ষম হবে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্ট (নেসেট) সদস্য ড্যানি ড্যানোন বলেন, হামাসের বিরুদ্ধে জবাব আসছে। তিনি বলেন, গাজার মানুষদের বিবেচনায় রাখতে হবে যে, তাদের মূল্য দেয়া লাগবে। হামাসের বিপরীতে, আমাদের বেসামরিকদের আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য নেই, তবে আমরা যখন হামাসকে লক্ষ্যবস্তু বানাবো তখন আমরা ক্ষমতাধর হব, দক্ষ হব এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে যা যা করা দরকার আমরা তা করব।
এদিকে, দক্ষিণ ইসরায়েলে বাসিন্দাদের এখনো আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়নি। হামাস সদস্যদের গুলিবর্ষণ শুরু হলে এসব বাসিন্দা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়। সেদরত শহরে শনিবার ফিলিস্তিন যোদ্ধাদের দখল করে রাখা একটি পুলিশ স্টেশন ভেঙে ফেলার চেষ্টায় আছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে সেখানে এখনো কোনো ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী রয়েছে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।






















