আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

পায়ুপথে ফোঁড়া ফেটেই ফিস্টুলা হয়: ডা. আয়শা আক্তার

  • In স্বাস্থ্য
  • পোস্ট টাইমঃ ২৪ মার্চ ২০২৩ @ ০৫:০৮ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২৪ মার্চ ২০২৩@০৫:০৮ অপরাহ্ণ
পায়ুপথে ফোঁড়া ফেটেই ফিস্টুলা হয়: ডা. আয়শা আক্তার

।।ডা. আয়শা আক্তার।।

রাজধানীর শেরে-ই বাংলানগর শ্যামলী ২৫০ শয্যা টিবি ও অ্যাজমা হাসপাতালের পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, মানুষের পায়ুপথে বিভিন্ন রোগ হয়। তেমনি নারীর বায়ুপথে ফিস্টুলা বা ভগন্দর এর অন্যতম। এ রোগটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। পায়ুপথের ভেতরে অনেকগুলো গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড থাকে। এই গ্রন্থিতে সংক্রমণের কারণে মলদ্বারের পাশে ফোঁড়া হয়। এই ফোঁড়া একসময় ফেটে গিয়ে ফিস্টুলা হয়।

পায়ুপথের ক্যান্সার অনেকদিন চিকিৎসাবিহীন থাকলে তা ফিস্টুলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। আবার ফিস্টুলা অনেক দিন চিকিৎসাবিহীন থাকলেও তার মধ্যে ক্যান্সারও হতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি সর্তক থাকলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন টিবি হাসপাতালের পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার এক সাক্ষাতকারে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, পায়ুপথে বিভিন্ন রোগ হয়। ফিস্টুলা বা ভগন্দর এর অন্যতম। ডায়ারিয়া, কলেরাসহ মলদ্বালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে এই রোগ হতে পারে।

এছাড়া ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত হলে এই রোগ হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়া বা ইনফেকশন কারণে বিভিন্ন সময় ব্যথা অনুভাব করে। দিনে দিনে পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এতে করে রোগীর উঠতে বসতে কষ্ট হয়। এরপর এটি ফেটে গিয়ে মলদ্বারের পাশের কোনো একটি জায়গা দিয়ে পুঁজ বেরিয়ে যায়। তারপর ব্যথা এবং ফুলা কমে যায়।

তিনি বলেন, রোগী বেশ কিছুদিন আরামবোধ করেন। কিছুদিন ভালো থাকার পর হঠাৎ আবার মলদ্বার ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়। দু-চার দিন পর পুরনো সেই মুখ দিয়ে আবার কিছু পুঁজ বের হয় চিকিৎসা না করা হলে এ প্রক্রিয়া বছরের পর বছর চলতে থাকে। পুঁজের সঙ্গে সাধারণত রক্ত যায় না। কিন্তু কখনও কখনও অল্প রক্ত যেতে পারে।

ডা. আয়শা বলেন, মলদ্বারে পার্শ্বস্থিত কোনো স্থানে এক বা একাধিক মুখ দিয়ে মাঝেমধ্যে পুঁজ বের হয়ে আসাকে আমরা ফিস্টুলা বলি। মলদ্বারের ক্যান্সার এবং বৃহদন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগেও ফিস্টুলা হয়ে থাকে। মলদ্বারে যক্ষ্মার কারণেও ফিস্টুলা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, একটা ক্ষত যদি বহু বছর থাকে তাহলে মলদ্বারের পাশে একটি ফোড়া হয়।  ফোড়া হলে  সবার সচেতনতা থাকা উচিত যে ছিদ্র করতেই হবে। এই পুঁজ যদি ফেটে বেরিয়ে যায়, এতে আসলে হিতে বিপরীত হয়। দেখা গেল পুঁজ বেরিয়ে যাওয়ার পর হয়তো শুকিয়ে গেল, ওই পথে আবার পানি, বের হওয়া শুরু হলো। কিছুদিন শুকনো থাকে, কিছুদিন ভেজা থাকে।

কারণ ফোড়া যেমন বাইরের দিকে বেরিয়ে যায়, এটা মলদ্বারের ভেতরেও ফেঁটে যায়। তখন মলদ্বারের ভেতরের সাথে এর বাইরের একটি সুরঙ্গ পথের যোগাযোগ হয়। একেই ফিস্টুলা বলে। এটা সাধারণ একটা ফোঁড়া থেকেই হতে পারে। আবার এনাল ফিসারের জটিলতা থেকেও হতে পারে।

চিকিৎসা পদ্ধতিসমূহ সর্ম্পকে ডা. আয়শা বলেন, বর্তমানে ফিস্টুলা চিকিৎসার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত অপারেশন পদ্ধতিগুলো হচ্ছে-ফিস্টুলোটোমি, ফিস্টুলেকটোমি, সিটন পদ্ধতি, ফিস্টুলা প্লাগ, ফিব্রিন গ্লু, ফ্ল্যাপ ব্যবহার, রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার, স্টেম সেল ব্যবহার, মলদ্বারের মাংসপেশির মাঝখানের নালি বন্ধ করে দেয়া, এন্ডোস্কোপিক ফিস্টুলা সার্জারি।

জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে সিটন পদ্ধতিতে দুই-তিন ধাপে অপারেশন করা হয়। প্রতিটি ধাপের মাঝে সাত থেকে ১০ দিন বিরতি দেওয়া হয়। এই সময় নিয়মিত ড্রেসিং করা প্রয়োজন। ড্রেসিং অপারেশনের পর পুনরায় ফিস্টুলা হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights