রিকোর্স চাকমা
রাঙামাটি প্রতিনিধি।।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় ডুবে গেছে রাঙামাটির সিম্বল অব রাঙামাটি খ্যাত পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত ব্রিজ। এদিকে ব্রিজটি ডুবে যাওয়ায় আবারও ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কা ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবারের সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হ্রদের পানি সেতুর পাটাতনের উপরে ৫থেকে ৬ ইঞ্চি উপরে উঠে গেছে। পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সর্তকতামূলক লাল নিশানা ও নিষেধাজ্ঞা টাঙিয়ে দিয়েছে পর্যটন কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা রাহুল সাহা নামে এক পর্যটক বলেন, জীবনে প্রথম রাঙামাটি ঝুলন্ত সেতু দেখতে আসলাম। এসে এই দৃশ্য দেখি আমি হতাশ হয়েছি। এটি যেন আমার দুভার্গ্য মনে হচ্ছে।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মোহাম্মদ সোহেল বলেন, অনেক আসা ছিল রাঙামাটিতে বেড়াতে এসে ঝুলন্ত সেতুতে ছবি উঠবে মজা করবো অনেক প্ল্যান করে এসেছি বন্ধুরা সহ।কিন্তু এসে দেখি ব্রিজে পানি উঠে গেছে কোন আনন্দই করা হলো না মনটা খারাপ করে ফিরতে হচ্ছে।

ছবি- বিডিহেডলাইন্স
বোট চালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি ডুবার কারনে টুরিস্ট আসতেছে না। আমাদের আয়ও কমে যাচ্ছে ভাড়া পাচ্ছি না।সকালে ব্রিজটি ডুবে গেছে আজকে আমার এক টাকাও আয় হয় নাই। যদি ব্রিজটি না ডুবতো টুরিস্ট আসতো ভাড়াও পায়তাম।
পর্যটন বোট ঘাটের ইজারদার রমজান আলী বলেন, প্রতি বছর লেকের পানি বাড়লে ব্রিজটি পানিতে ডুবে যায়। এতে আমাদের ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। ব্রিজটি ডুবে যাওয়ায় আজকে আমাদের কোন বোট ভাড়া হয়নি। গত ৫ দিন ধরে আমাদের আয় কমেছে।
পানি না কমলে আমাদের আয় আরো কমবে।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, সেতুটি ডুবে যাওয়ায় আমরা আরো আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক সেতুটি দেখতে রাঙামাটিতে বেড়াতে আসেন। এখন লেকের পানি বেড়ে যাওয়ায় কারণে আজকে সকালে ব্রিজে পানি উঠে গেছে। যার কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ব্রিজে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে পানি কমে এলে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। এই বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
১৯৮৩ সালে সেতুটি নির্মাণ করে পর্যটন কর্পোরেশন। এর পর এ সেতুটি আরো উচুঁ স্থানে স্থানান্তরের কথা বলা হলেও উচুঁতে স্থানান্তর হয়নি।
রাঙামাটি কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ টি এম আব্দুজাহের জানান, বর্তমানে হ্রদে ১০৫.৬৬ ফুট পানি রয়েছে। এটি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। পানির লেভেল ১০৭ ফুট হলে পানি ছাড়ার কথা চিন্তা করা হবে। এখনো পানি ছাড়ার চিন্তাভাবনা নেই। বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। হ্রদে পানি বাড়লে উৎপাদন আরো বাড়বে।
১৯৬০ সালে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করা হয় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে কর্ণফুলী, কাচালং, মাইনী, চেঙ্গী, রাইংখ্যং নদীর পানি বাঁধ দিয়ে ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।






















