আজ ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শরীয়তপুর সদর হাসপাতা‌লের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ; আত‌ঙ্কে রোগী

  • In সারাবাংলা, স্বাস্থ্য
  • পোস্ট টাইমঃ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ @ ০৩:৫৬ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩@০৩:৫৬ অপরাহ্ণ
শরীয়তপুর সদর হাসপাতা‌লের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ; আত‌ঙ্কে রোগী

নয়ন দাস
শরীয়তপুর প্রতি‌নি‌ধি।।

গত পাঁচ বছর ধ‌রে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এরপরও থে‌মে নেই চি‌কিৎসা সেবা। ছাদের বি‌ভিন্ন অং‌শের ধস ঠেকাতে ই‌তোম‌ধ্যে বসানো হয়েছে লোহার খুঁটি। এমন অবস্থায় আতঙ্কের মধ‌্য দি‌য়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন দা‌য়িত্বরত চিকিৎসক ও কর্মাচারীরা।

১০০ শয‌্যা বি‌শিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই ছাদের পলেস্তার খসে রোগীদের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। প্রায় দুই বছর আ‌গে ভবন‌টি গণপূর্ত বিভাগের ডিজাইন শাখা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের নিচতলার করিডোর, বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে যাওয়ার করিডোর, এক্স-রে কক্ষ ও অফিস কক্ষে বসানো হয়েছে লোহার খুঁটি। হাসপাতালের কমপক্ষে ১০টি স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে অ‌নেক আ‌গেই। গণপূর্ত বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার পরেও ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবা চা‌লি‌য়ে যা‌চ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ‌যে কোন সময় মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ার আতঙ্কে রয়েছেন সং‌শ্লিষ্টরা।

২০১৮ সালে ভবনটির নিচতলার পূর্ব দিকে বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের রুমের সামনের দিকের ছাদ ভেঙে পড়ে তিন রোগী আহত হন। এর পর কয়েক দফায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের রুম, টিকিট কাউন্টারের সামনের ছাদ, বহির্বিভাগ ফার্মেসির ছাদ, সিঁড়ির দিকের ছাদ ভেঙে পড়ে‌ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দিলে ২০২১ সালের ২৮ জুলাই গণপূর্ত বিভাগের বিশেষজ্ঞ টিম হাসপাতাল ভবন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করে ভবনটির কাঠামোগত নকশা পায়নি। বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্য ও গণপূর্ত বিভাগের ডিজাইন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী লিন্টু গাজী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ভবনটির নিচতলার বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা ও কভার খুলে গেছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়ে‌ছে ওই প্রতিবেদনে।

এরপর ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় রূপান্তরের ঘোষণা দেয় সরকার। বর্তমা‌নে নতুন আটতলা ভব‌নের কাজ চল‌ছে ধীর গ‌তি‌তে। ২০১৮ সালে ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি গণপূর্ত বিভাগ।

সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগের ফার্মেসি ইনচার্জ নাসির উদ্দীন আহমেদ বলেন, কিছু দিন আগে রাতের বেলা ছাদ ভেঙে পড়ে। আমাদের ভাগ্য ভা‌লো একটুর জন‌্য রক্ষা পে‌য়ে‌ছি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, সদর হাসপাতাল শরীয়তপুরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০০ ও ৭০০ এবং আন্তঃবিভাগে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। হাসপাতালটি দ্বিতল ভবনের হলেও এটাকে তিন তলায় রূপান্তর করা হয়েছে। আমরা আত‌ঙ্কের ম‌ধ্যে আ‌ছি।

শরীয়তপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহিবুর রহমান বলেন, আগামী মাসের ৭ তারিখে তারা দ্বিতীয় তলা এবং তৃতীয় তলা ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত করে দেওয়া হ‌বে। দ্রুত গ‌তিতে নির্মাণ কাজ চল‌ছে ব‌লে তি‌নি দাবী ক‌রেন।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ