আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

শীত শেষে ঋতুরাজ বসন্ত

  • In শিল্প-সাহিত্য
  • পোস্ট টাইমঃ ২২ মার্চ ২০২৩ @ ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২২ মার্চ ২০২৩@০৭:২৬ পূর্বাহ্ণ
শীত শেষে ঋতুরাজ বসন্ত

আহা আজি এ বসন্তে কত ফুল ফোটে কত বাঁশি বাজে কত পাখি গায়। শুধু কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নয়, বসন্তের দক্ষিণ হাওয়া আজ মানব মনে ও প্রকৃতির সবখানেই বইছে। সবার মনে ভালোবাসার ঝঙ্কার আনবে। এসেছে যে বসন্ত। সব ফুল পাঁপড়ি মেলে, সব পাখি উড়ে যাবে সুদূরে, সব সুর গান হয়ে যাবে বসন্তের আগমনে।
শীতের থেকে বেরিয়ে আবার পত্র-পুষ্পে ভরে উঠবে বৃক্ষরাজি। প্রকৃতিতে তারই আমেজ। প্রকৃতি এখন ব্যস্ত হয়ে উঠেছে নতুন সাজে সাজতে। বসন্তের আগমনী বার্তায় অরণ্যের অগ্নিশিখা পলাশ ফুটেছে। পাখির কূজনে মুখর হচ্ছে জনপদ। গাছগুলো সবুজ পাতায় ছেয়ে যাওয়ার অপেক্ষা, যে পাতার ফাঁকে বসে কুহু গান ধরবে কোকিল।
ফুলে ফুলে ভরে যাবে গাছগাছালি। মনের আনন্দে পাখিরা গান গাইতে শুরু করবে। হাজার রঙ নিয়ে ফোটার অপেক্ষায় ফুলগুলো। বসন্ত নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ অনেকেই লিখেছেন গান, কবিতা। সত্যি বলতে বসন্ত নিয়ে বর্তমান সময়ে খুব একটা রচিত হয়নি গান-কবিতার পঙ্ক্তিমালা। রবীন্দ্রনাথের মায়ার খেলা গীতিনাট্যের ‘আহা আজি এই বসন্তে, এতো ফুল ফোঁটে, এতো বাঁশি বাজে এতো পাখি গায়।’ কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন একটি গানে- ‘বসন্ত আজ আসলো ধরায়, ফুল ফুটেছে বনে বনে, শীতের হাওয়া পালিয়ে বেড়ায় ফাল্গুনী মোর মন বনে।’ অথবা ‘বসন্ত এলো এলো এলোরে, পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহুরে।’ সকল কুসংস্কারকে আর করোনাকে পেছনে ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে বসন্তের উপস্থিতি। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, তরুণ-তরুণী বসন্ত উম্মাদনায় মেতে উঠুক শীতের সাথে বছর এক আগে উদ্ভাবিত করোনার ভয়াবহতাকে বিদায় জানাক। শীতকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়েই বসন্ত বরণে চলবে ধুম আয়োজন। শীত চলে যাবে রিক্ত হস্তে, আর বসন্ত আসবে ফুলের ডালা সাজিয়ে। বাসন্তী ফুলের পরশ আর সৌরভে কেটে যাবে করোনার জরা-জীর্ণতা। এ ঋতুতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যায়।
আত্মভোলা মনে জাগে গান। রক্তবর্ণের শিমুল, পলাশ ও কৃষ্ণচূড়া এ সময়েই ফোটে। আমগাছ সাজে নব মঞ্জরিতে শোভিত হয়ে। ভ্রমর মনের আনন্দে গুঞ্জন করতে করতে সুগন্ধি পুষ্প ও আম্র মঞ্জরির মধু পানে মত্ত হয়। যব, গম, সরিষা ইত্যাদি শস্যে মাঠগুলো রমণীয় শোভা ধারণ করে। চারদিকে প্রাণের স্পন্দন,.. সাজ সাজ রব। কংক্রিটের জঙ্গল পাড়ি দিয়ে বসন্তের দখিন হাওয়া উচ্ছ্বাসের রং ছড়াক মনে। ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে, ফাল্গুনের প্রথম প্রহরে, বসন্ত বরণ উৎসবে। পলাশ রাঙা সকালে দখিনা হাওয়ায় আমের মুকুলের দোলা, এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত, জীবনের এসেছে পূর্ণতা। নতুন প্রাণের কলরব, চারুকলার বকুলতলায়। বসন্ত বরণের টানে, দালানের খোলস ছেড়ে বাসন্তী সাজে জড়ো সুরের সম্মোহনে বকুলতলায়। ফাল্গুনের প্রথম প্রহরে মিলে মিশে একাকার।’ বাংলাদেশের প্রকৃতি বৈচিত্র্যময়। প্রতিটি ঋতুতেই এই বৈচিত্র্য সৌন্দর্য ছড়ায়। তবে বসন্তের সৌন্দর্য উপমাহীন। এর সাথে তুলনা চলে না অন্য কোনো ঋতুর। এমন ফুলেল সময় আর কখনো দেখা যায় না। শীতের জীর্ণতা শেষে প্রকৃতিতে যে উষ্ণতা আসে সেই উষ্ণতায় মানুষের মনও প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে জেগে ওঠে নতুনের আহবানে। বসন্তের প্রথম সকালে বাসন্তি রঙা শাড়ি, কপালে টিপ, হাতে চুড়ি, পায়ে নূপুর, খোঁপায় গাঁদা ফুল জড়িয়ে বেরিয়ে পড়বে তরুণী-বধূরা। বাসন্তি পাঞ্জাবি, ফতুয়া পরা হাজারো ছেলে-বুড়োর ঢল নামবে বসন্ত বরণের নানা আয়োজনে। বসন্তের আমোদনে ফাগুনের ঝিরিঝিরি হাওয়া, রক্তিম পলাশ, শিমুল, কাঞ্চন পারিজাত, মাধবী, গামারী আর মৃদু গাঁদার ছোট ছোট ফুলের বর্ণিল রূপে চোখ জুড়াবে।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights