।।ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক।।
যুক্তরাজ্যের এক হাসপাতালে সাত নবজাতককে হত্যায় এবং আরও ছয়জনকে হত্যাচেষ্টায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে এক নার্স। নিজের কর্মস্থলে এসব শিশুকে হত্যা করে ওই নার্স। শুক্রবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত বলেছে, লুসি লেটবি (৩৩) যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ভয়াবহ শিশু হত্যাকারী।
গত অক্টোবর থেকে বিচার চলছে লুসি লেটবির। তার বিরুদ্ধে নবজাতক শিশুদের ইনেঞ্জকশনের মাধ্যমে বাতাস ঢুকিয়ে, অতিরিক্ত দুধ খাইয়ে এবং ইনসুলিন প্রয়োগ করে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ম্যানচেস্টারের ক্রাউন আদালতে তার দণ্ড এখনো ঘোষণা হয়নি।
কাউন্টিস অব চেস্টার হাসপাতালে কাজ করতেন লুসি লেটবি। হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত একের পর এক শিশু মৃত্যুর পর ওই নার্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লুসি।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, লুসি লেটবি একজন হিসেবি নারী। হত্যাকাণ্ডে সে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যাতে খুব বেশি ছাপ থাকে না। আইনজীবীরা বলেছেন, সময়ে সময়ে সে শিশুদের এমন পরিবেশে ক্ষতি করেছে, যেখানে তারা এবং তাদের পরিবারের নিরাপদ থাকা উচিত ছিল।
এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের আরও দুইটি ভয়াবহ চিকিৎসা সংক্রান্ত হত্যাকারী ডাক্তার হ্যারল্ড শিপম্যান ও নার্স বেভারলি অ্যালিট কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। জেনারেল প্রাক্টিশনার শিপম্যানের বিরুদ্ধে ১৫ রোগী হত্যার অভিযোগ প্রমাণ হয়। এর চার বছর ২০০৪ সালে কারাগারে নিজেকে হত্যা করে এই চিকিৎসক। পরে এক তদন্তে দেখা যায়, প্রাণঘাতী মরফিন ইঞ্জেকশন দিয়ে এই ডাক্তার ঙ৯৭১ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে ২৫০ রোগীকে খুন করেছে।
‘মৃত্যুদূত’ আখ্যা পাওয়া নার্স বেভারলিকে ১৯৯৩ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে চার শিশু হত্যা, তিন শিশুকে হত্যাচেষ্টা এবং আরও ছয়জনের শরীরে মারাত্মক ক্ষতি করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়।






















