।।ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক।।
দুর্নীতির দায়ে কারাগারে যাওয়া পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অবহেলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছে তার দল। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি বলছে, দুর্গম এই কারাগারে দুর্ধর্ষ অপরাধীরা থাকে। এই কারাগার রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য নয়।
ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিতে আসা ইমরান খানের বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত। শনিবার দণ্ড ঘোষণার পর তাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে নিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে এর পরিবর্তে তাকে ইসলামাবাদের ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটক জেলা কারাগারে নেয়া হয়।
সোমবার ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করেন তার এক আইনজীবী নায়িম পাঞ্জুথা। তিনি বলেন, ইমরান মনে করেন তাকে এই কারাগারে ইচ্ছাকৃতভাবে নেয়া হয়েছে, কারণ এখানে কোনো এ-ক্লাস, বি-ক্লাস সুবিধা নেই।
১৯০৫ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ শাসনের সময় অ্যাটক কারাগার স্থাপন করা হয়। আনুষ্ঠানিক ধারণক্ষমতা ৫৩০ হলেও এই কারাগারে সরকারি হিসেবে আটশর বেশি বন্দি রয়েছে।
আইনজীবিী পাঞ্জুথা বলেছেন, ইমরান খানকে একটি সংকীর্ণ কক্ষে রাখা হয়েছে। তবে অবসরপ্রাপ্ত জেলার গুলজার ভাট বলেন, গত কয়েক বছরে কারগারটির কক্ষগুলো সংস্কার করা হয়েছে। এর সব কটি ১০ ফুট ও ১২ ফুট আকারের।
পাঞ্জুথা জানান, কারাগারে একটি খোলা বাথরুম রয়েছে। সেখানে দিনে মাছি আর রাতে কীট ওড়ে। গ্রীস্মের অতিরিক্ত গরমেও সেখানে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ নেই। বাধ্য হয়ে ইমরান কোরান পড়ে সময় কাটাচ্ছেন।
ওই আইনজীবী জানাচ্ছেন ইমরান খান টিভি দেখতে পারছেন না। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সুবিধা তার প্রাপ্য। তাকে ডাল, রুটির মতো কারাগারের মৌলিক খাবার দেয়া হয়েছে।
৭০ বছরের ইমরান বিলাসি জীবনে অভ্যস্ত। পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লাহোরের অভিজাত পরিবারের এই সন্তান পড়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭০ এর দশকের শেষ দিকে ক্রিকেটার ইমেজের শীর্ষে থাকার সময় লন্ডনে প্লেবয়ের পরিচিতি ছিল তার। পাকিস্তানে ইমরান খানে দুই বাড়ি। ইসলামাবাদে পাহাড়ের চূড়ায় বিলাসি বাংলোর পাশাপাশি লাহোরে বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে তার।






















