।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, দেশে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নারীদের জরায়ু মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে টিকা দেওয়া শুরু হবে। আর ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এই টিকা দেওয়া হবে। এ পর্যন্ত সাড়ে ২৩ লাখ ডোজ এসেছে। নভেম্বর থেকে আরও আসবে।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা প্রদান’ সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিবছর ২৭ হাজার নারী জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মৃত্যুবরণ করেন। আমরা যদি টিকা দিতে পারি তাহলে মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে। জরায়ু মুখ ক্যানসারের যে টিকা দেবো, সেটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত।
জাহিদ মালেক বলেন, আমরা প্রথমে স্কুলের মেয়েদের থেকে শুরু করবো, তবে পর্যায়ক্রমে আমরা সব মেয়েদেরই এ টিকা দেবো। আমরা সেপ্টেম্বর মাস থেকে এ টিকা দেওয়ার কাজ শুরু করবো। ইতিমধ্যে আমরা টিকা হাতে পেয়েছি। আমরা প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ টিকা পেয়েছি, আমাদের কাছে আছে। নভেম্বরেও আমরা আরও ২০ লাখ টিকা পাবো। ডিসেম্বরে পাবো ১২ লাখ। ২০২৪ সালে আমরা আরও ৪২ লাখ টিকা পাবো। ২০২৫ সালে পাবো আরও ২২ লাখ টিকা। যেহেতু এ টিকার চাহিদা অনেক বেশি এবং এ টিকা বিশ্ব জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই যেভাবে আমরা টিকা পাব সেভাবেই আমরা দেওয়া শুরু করবো।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ১০ কোটি কলেরা টিকা পাবে। যার মূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। যা পাঁচ কোটি মানুষকে দেওয়া যাবে। এই টিকা দিতেও আমাদের প্রায় ৬০০ কোটি টাকা খরচ হবে। তবে এই টিকা তারা আমাদেরকে বিনামূল্যে দিবে। এটি একটি যুগান্তকারী কাজ হবে। আমরা কোভিডের ভ্যাকসিন দিয়েছি, ইনশাল্লাহ কলেরার ভ্যাকসিনও দিতে পারব।
জাহিদ মালেক বলেন, একটি ভালো খবর হচ্ছে, বাংলাদেশ যেহেতু টিকা ভালো মতো দিতে পেরেছে, বাংলাদেশের মানুষ যেহেতু টিকা ভালোভাবে নিয়েছে, সেই কারণে গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ওপর খুশি। তারা আমাদেরকে ১০ কোটি কলেরার ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা আগামী পাঁচ বছরে তারা আমাদেরকে দিবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা কিন্তু রোহিঙ্গাদেরও কলেরা টিকা দিয়েছি, ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কলেরা কিংবা ডায়রিয়া সেভাবে ছড়ায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মো খুরশিদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটো মিয়া উপস্থিত ছিলেন।






















