মুহাম্মদ সাইফুর রহমান টিটু
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি।।
মুন্সিগঞ্জে ভূমি ও গৃহহীনদের মাঝে ৭০ টি গৃহ বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু জাফর রিপন। তিনি সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নবনির্মিত ৭০ টি গৃহ আগামী ৯ আগস্ট গৃহীনদের মাঝে হস্তান্তর করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।
এসময় তিনি আরো জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন নোয়াখালী বর্তমান লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরপোড়াগাছা গ্রামে ভূমিহীন-গৃহহীন, অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশী ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর দেশের গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবার পুনর্বাসনের মতো জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো স্থবির হয়ে পড়ে।
বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো পুনরায় শুরু করেন। তাই তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মডেল সামনে এনে পিছিয়ে পড়া ছিন্নমূল মানুষকে মূলধারায় আনার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিনে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন এবং একই বছর তিনি সারা দেশের গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শুরু করেন “আশ্রয়ণ প্রকল্প”। আশ্রয়ণ প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো:
১। ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন।
২। প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা।
৩। জয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ।
মুজিববর্ষে “বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের বাসস্থান নিশ্চিতকল্পে সেমিপাকা একক গৃহ নির্মাণের কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। সমগ্র দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে ২ শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের এ প্রকল্পটিতে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সংযোজন করা হয় ৪০০ বর্গফুট আয়তনের ২ কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা একক গৃহ। এই ঘরে সুপরিসর ২টি কক্ষের সামনে টানা বারান্দা এবং পেছনে রয়েছে রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাটট্রিন। স্থাপিত প্রকল্প গ্রামগুলোতে সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিনন্দন লে-আউটের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাস্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সাথে ক্ষুদ্র ঋণসহ আর্থিক সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সভায় ঘোষণা করা হয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী যৌথ মালিকানায় বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সুপেয় পানির সুবিধাসহ ২ শতক জমি ও একটি সেমিপাকা ঘরের মালিক হচ্ছেন। একই সাথে তাঁদের স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্র ঋণের সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জ জেলার ০৬ (ছয়) টি উপজেলায় ‘ক’ তালিকার ভূমিহীন পরিবার রয়েছে ১৩৫৩ টি। তার মধ্যে ১ম পর্যায়ে ৫০৮টি, ২য় পর্যায়ে ৩২৫টি, ৩য় পর্যায়ে ৭২টি পরিবারের জন্যে ঘর নির্মাণ শেষে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পূর্ব পর্যায়ে ২৮২টি পরিবারের অনুকূলে গৃহ ও জমি প্রদান কার্যক্রম চলছে।
বর্তমানে উদ্বোধনযোগ্য ঘরের সংখ্যা ৭০টি (সিরাজদিখান উপজেলায় ৩৪টি, শ্রীনগর উপজেলায় ২১টি এবং লৌহজং উপজেলায় ১৫টি)। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী ০৯ আগস্টে মুন্সীগঞ্জ জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত এই ৭০টি ঘর এর উদ্বোধনের মাধ্যমে গৃহহীনদের মাঝে হস্তান্তর করবেন ।
এছাড়া টংগিবাড়ী ও শ্রীনগর উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করবেন। তবে জেলায় অন্য কোন বিশেষ কারণে কোন ব্যক্তি ভূমিহীন গৃহহীন হলে তাদেরকে দ্রুততার সাথে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য ৪র্থ ধাপে চলতি বছরের ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ২১২টি ঘর উদ্বোধন করা হয়েছে এবং মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এসময় আরও উপস্থিতি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জাকির হোসেন, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মোঃ মাহমুদ আল হাসান, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমাসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অন্যান্য সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও সহকারী কমিশনার, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ শহিদ ই হাসান তুহিন, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি লাবলু মোল্লা, মাই টিভি মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি শেখ মোঃ রতন, একুশের টিভির মোঃ টিটু, আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার মোঃ মাসুস রানা, জাতীয় দৈনিক গণমুক্তি ও বাংলা টিভির মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ রুবেল মাদবর, সেতু ইসলাম, শাহানাজ বেগম, মোঃ জাহাঙ্গির আলমসহ আরো অনেকেই।






















