আজ ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস

আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস

।।বিডিহেডলাইন্স ডেস্ক।।

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ আমাদের জাতির সংগীত আর ভারতেরও জাতিয় সংগীত রচনা করে যিনি আজো বাঙ্গালির হৃদয় মনিকোঠায় সাহিত্য, চেতনায় চির অমর হয়ে আছেন- তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আজ ২২শে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮১তম প্রয়াণ দিবস। বহু প্রতিভার এক আপন সত্ত্বার অধিকারী এই কবি তার প্রতিভার আলোয় উদ্ভাসিত করে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছিলেন বিশ্ব দরবারে। পেয়েছিলেন বিশ্বকবির সম্মান। তিনি বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ কবি। বাঙালি জাতির গৌরব, যা আজো সাহিত্যাঙ্গনের স্বর্ণ শিখরে চির ভাস্কর্য হয়ে আছে।

বাংলা সাহিত্যের এই অসামান্য প্রতিভা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮বাংলা সনের ২৫বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৬১সালের ৭মে) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মা সারদাসুন্দরী দেবী। বাংলা ১৩৪৮সনের ২২শ্রাবণ কলকাতায় পৈতৃক বাসভবনে ইহলোক ত্যাগ করেন তিনি।

একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ ও চিত্রশিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য প্রতিভার উন্মেষ ঘটে শৈশবেই। মাত্র ৮ বছর বয়সে তার লেখালেখির হাতেখড়ি। ১৮৭৪সালে ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’য় তার প্রথম লেখা কবিতা ”অভিলাষ” প্রকাশিত হয়। এরপর এই লেখালেখি চলে বিরামহীন।

১৮৭৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’ প্রকাশিত হয়। সেসময় থেকেই কবির লেখা দেশ-বিদেশে প্রকাশিত হতে থাকে। উপন্যাস, নাটক, সংগীত, প্রবন্ধ, চিত্রকলা বা দর্শন- বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে বিচরণ করেননি রবীন্দ্রনাথ। অসাধারণ সৃজনশীলতা, নিবিড় জীবনবোধ ও ভাষার অনন্য প্রকাশভঙ্গি দিয়ে সাহিত্যের সমসাময়িক বিশ্বে তিনি খ্যাতি লাভ করেন। বিশ্বের নানা ভাষায় তার সাহিত্যকর্ম অনূদিত হয়েছে। নানা দেশের পাঠ্যসূচিতে তার লেখা সংযোজিত হয়েছে।

১৯১০সালে প্রকাশিত হয় তার ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বলা হয়ে থাকে- রবীন্দ্রনাথের লেখার প্রধান উপজীব্য ছিল জীবনানুভুতি যেখানে বাঙালির জাতিসত্তা, আশা-আকঙ্খা-নিরাশার আবেদনগুলো স্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে। এটি এমন প্রবলভাবে এসেছে যে তিনিই হয়ে ওঠেছেন বাঙালির জাতিসত্তা ও বোধের এক অপার আধার, কালের চিরন্তন সাক্ষী। তার প্রকাশিত কবিতার বই ৫২টি, উপন্যাস ১৩ টি, ছোটগল্পের বই ৯৫ টি, প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ ৩৬ টি এবং নাটকের বই ৩৮ টি। কবির মৃত্যুর পর ৩৬খণ্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া, ১৯খণ্ডের রয়েছে ‘রবীন্দ্র চিঠিপত্র’।

এ সব মৌলিক সৃজনশীলতার বাইরেও কবির প্রতিভাস্ফুরণ রয়েছে। জমিদার পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি জমিদারিও করেছেন। তার প্রজাহিতৈষী মনোভাব সর্বজন বিদিত। আজো বাঙ্গালির হৃদয়ে তার কর্মকাণ্ডের সুনাম মহীয়ান ব্রত অমর হয়ে আছে। কবি’র মানবিক গুণাবলী ও দেশপ্রেম আজো বাঙ্গালি জাতিকে উজ্জীবিত করে।

কবি ১৮৯১সাল থেকে বাবার আদেশে কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও ওড়িশায় তাদের জমিদারি দেখাশোনা করেন। সেখানকার পৈতৃক ‘কুঠিবাড়িতে’ তিনি অসংখ্য কবিতা ও গান রচনা করেন। পাশাপাশি তিনি ১৯০১সালে শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০১সালে কবি কুষ্টিয়ার শিলাইদহ থেকে সপরিবারে বোলপুরে শান্তিনিকেতনে চলে যান। ১৯০৫সালে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯২১সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য ‘শ্রীনিকেতন’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিশ্বভারতী’। বিশ্ব ভ্রমণে কবি ছিলেন অনন্য। তিনি ১৮৭৮ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত ৫টি মহাদেশের ৩০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেন।

কবি রচনা করেছেন ২ হাজারের বেশি গান। অধিকাংশ গানের সুরারোপর তারই। ‘গীতবিতান’ তার সমগ্র গানের গ্রন্থ। কবির লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় সংগীতটিও কবির লেখা। কবি তার গান দিয়েও চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন শতকোটি মানুষের হৃদয়ে।

কবি স্মরণে আজ বাঙ্গালি জাতি বিভিন্ন আয়োজন, কবিতা আবৃত্তি, সংগীতসহ নানা কার্যক্রম নিয়ে দিনটি পালন করবে।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ