আজ ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

“আমাকে বাসে উঠায় দিয়ে বলছে আর কোন দিন বাসায় আসবে না”- বৃদ্ধা মা

  • In বিশেষ সংবাদ
  • পোস্ট টাইমঃ ২২ জুলাই ২০২৩ @ ০৬:১২ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২২ জুলাই ২০২৩@০৭:৩২ অপরাহ্ণ
“আমাকে বাসে উঠায় দিয়ে বলছে আর কোন দিন বাসায় আসবে না”- বৃদ্ধা মা

রফিক প্লাবন
দিনাজপুর।।

মায়ের পায়ের নীচেই সন্তানের বেহেস্ত- এটা যেমন সত্য, তেমনি এ ধরায় মায়ের ঋণ শোধ দেবার মত কোন সন্তান আজ পর্যন্ত জন্ম হয়নি। আর সেটা হবেও না, এটাও সত্য। এরপরও গর্ভধারিনী মায়ের প্রতি প্রায়ই অমানবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায় এ দেশে। এর কারণ হিসেবে নৈতিক শিক্ষা, মূল্যবোধের অভাবকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। এমনই এক হৃদয়বিদারক চিত্রের দেখা মিলেছে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলায়।

নিশ্চুপ নিথর্ব বসে থাকা বৃদ্ধা মা শাকিলা বেগম এর কথা বলছি। সন্তানের অমানবিকতায় আজ তার আশ্রয় হয়েছে অন্যত্র। বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই। বয়সের ভাড়ে গায়ের চামড়া জড়ো হয়ে গেছে। উপজেলার হিলি স্থলবন্দরের সিপি মোড়ের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম সুইট এর বাসার বারান্দায় গত সাত দিন যাবত আশ্রিত অবস্থায় রয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার (২২ জুলাই) দুপুর ১ টায় কথা হয় নিশ্চুপ বসে থাকা বৃদ্ধা শাকিলা বেগম এর সাথে। তিনি বেশি কিছু বলতে পারছে না। তবে জিজ্ঞেসা করলে শুধু বলছেন বাসা ঢাকায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাকিলা বেগম বলেন, গত কয়েক দিন আগে আমার ছেলে ও ছেলের বউ একটি কাপড়ের ব্যাগসহ বাসে উঠিয়ে দিয়ে বলেছে- আর যেন তাদের বাসায় না ফিরি। চোখ যেদিকে যায় সেদিকে তুমি চলে যাও। বৃদ্ধা মহিলা ও বাসের লোক তার ছেলের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর চাইলে তার ছেলে মোবাইল নম্বরও দেয়নি। পরে বাসের ড্রাইভার তাকে হিলি সিপি মোড়ে নামিয়ে দেয়। শাকিলা বেগম জানান, তার মেয়ে নেই, এক ছেলে। নাম জামিল হোসেন। ছেলের চার মেয়ে আছে তার মধ্যে তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছে।

হিলি স্থলবন্দর এলাকার সি পি মোড়ে হিলি-বিরামপুর রোডে সিএনজি চালক শাহিনুর ইসলাম বলেন, কয়েক দিন থেকে বৃদ্ধা মহিলাকে এই বিল্ডিং এর বারান্দায় থাকতে দেখতেছি। কখনো বসে থাকে আবার কখনো দাড়িয়ে থেকে শুধু রাস্তার দিকে চেয়ে চেয়ে থাকে। বাসার কথা বললে বলে ঢাকায়, নাম শাকিলা। আর কিছু বললে শুধু কান্না কাটি করে বলে ছেলের বাড়িতে যামু। কারো কাছে কিছু চায় না। কেউ কিছু দিলে সেটি নিয়ে খায়।

হিলি সিপি মোড়ের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম সুইট বলেন, আমি গত সাত দিন ধরে আমার বাসার বারান্দায় এই বৃদ্ধ মহিলাকে থাকতে দেখতেছি। এক পর্যায়ে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারছেন না। শুধু বলছেন তার ছেলে এবং ছেলের বউ তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন। আমি মাঝে মাঝে তাকে খাবারও কিনে দিয়েছি। আমি তার ছবিসহ ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি গত রাতে মুঠো ফোনে আমাকে বলেছেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে অবগত করা হয়েছে তারা খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এরপর সমাজসেবা অফিস থেকে তামান্না নামের একজনের সাথে আমার মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি বলেন, আমার আপনার বাসায় গিয়ে ওই বৃদ্ধার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আজ দুপুর ২ টা পর্যন্ত সমাজসেবা অফিসের কেউ আসেনি।

এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, আমি বৃদ্ধা মহিলার বিষয়ে জানতে পেরেছি। ইতোমধ্যে আমাদের উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছি। খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights