আজ ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ভবিষ্যৎ ধকল মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আবশ্যক: প্রধানমন্ত্রী

  • In জাতীয়, শীর্ষ
  • পোস্ট টাইমঃ ২২ জুলাই ২০২৩ @ ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২২ জুলাই ২০২৩@১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
ভবিষ্যৎ ধকল মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আবশ্যক: প্রধানমন্ত্রী

।।বিডিহেডলাইন্স ডেস্ক।।

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের গুরুত্বের ওপর আবারো জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার এই সময়ে ভবিষ্যতের ধকল মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে দুর্বলদের জন্য সহনশীলতা তৈরিতে স্পষ্টত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আবশ্যক। প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপে (জিসিআরজি) ভার্চ্যুয়ালি অংশ নিয়েএসব কথা বলেন।
প্রলম্বিত যুদ্ধ এবং এর জেরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের প্রতিটি দিন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এবং বিশ্বের দূরতম প্রান্তে অনেক জীবন কেড়ে নিচ্ছে এবং ধ্বংস করছে।
যুদ্ধের জেরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য তীব্রভাবে বাড়তে থাকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দরিদ্র দেশগুলোর ঋণের বোঝা বেড়ে যাচ্ছে। এসব সমস্যা এবং অন্যান্য ধাক্কা বিশ্বজুড়ে খাদ্য, শক্তি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, যার ফলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতিতে বিলম্ব হচ্ছে।

বাংলাদেশে তৈরি হওয়া সমস্যার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিকারক দেশ হিসেবে ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপে ভুগছে বাংলাদেশ।

ভবিষ্যত ধকল ঠেকাতে সহনশীলতা তৈরিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট চিন্তা উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রথমত তিনি জরুরিভাবে একটি সংস্কারকৃত আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। এই কাঠামো স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিনাশর্তে রেয়াতি, স্বল্প-মূল্যের, স্বল্প সুদের তহবিলে প্রবেশাধিকারসহ আর্থিক সুবিধা দেবে। এছাড়া আইএফআই ও এমডিবি থেকে নিম্ন সুদে তহবিল প্রাপ্তির সুযোগ থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, খাদ্যের মূল্য ও অ্যাক্সেসকে প্রভাবিতকারী বিষয় যেমন রপ্তানি বিধিনিষেধ, মজুদ ও সরবরাহ চেইন বিকৃতি- এসবের সুরাহা করতে হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের বাজার উন্মুক্ত রাখা, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা অপসারণ এবং খাদ্য মজুদ ছেড়ে দেয়ার আহ্বানকে পূর্ণ সমর্থন জানান। তৃতীয় পর্যবেক্ষণে শেখ হাসিনা, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংমিশ্রণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি হ্রাসের পাশাপাশি জ্বালানি শক্তিকে বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহারের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো কমিয়ে আনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

কঠিন সময়ে জনগণকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সরকারের কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে কিছু কঠিন আর্থিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হয়, অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে আমাদের অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসদ্রব্য আমদানি সীমিত করতে হয়, জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভর্তুকি প্রত্যাহার করতে হয়, সরকারি খাতে সামগ্রিক ব্যয় হ্রাস করতে হয়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে আইএমএফের কাছ থেকে ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করতে হয়, মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে রাখতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় এবং আমাদের জনগণকে কোনো জমি অনাবাদি জমি না রেখে খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করতে হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বছর, ২০২৩, প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের কথা রয়েছে। ‘আমরা ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’-এ সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি এবং বিদ্যমান জলবায়ু তহবিলে প্রবেশাধিকার সুবিন্যস্ত হয়েছে দেখতে চাই।

আঙ্কাটাড মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যানের সঞ্চালনায় ভার্চুয়ালি এ আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘ মহাচিব আন্তোনিও গুতারেস।

সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বারবাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া মটলি পুরোধা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক সমন্বয় বিষয়ক মন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হার্তাতো, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড: সুব্রানিয়াম জয়শংকর, ডেনমার্কের উন্নয়ন সহযোগিতা ও বৈশ্বিক জলবায়ূ বিষয়ক মন্ত্রী ড্যান জার্গেনসেন, জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়ামাদা কেনেজি এবং জার্মানির কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী জোচেন ফ্ল্যাশবার্থ পর্যবেক্ষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ