আজ ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ও ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ২৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কলা গাছের ভেলা বা নৌকায় স্কুলে যাই, কখনও বই-খাতা ভিজে যায়

  • In বিশেষ সংবাদ
  • পোস্ট টাইমঃ ২১ জুলাই ২০২৩ @ ০৩:২৬ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২১ জুলাই ২০২৩@০৩:২৬ অপরাহ্ণ
কলা গাছের ভেলা বা নৌকায় স্কুলে যাই, কখনও বই-খাতা ভিজে যায়

।।বিশেষ প্রতিবেদক।।

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দোতলা পাকা ভবনের অবস্থান একেবারে প্রকৃতির কোলে। চারপাশে খোলা জায়গা ও ফসলি জমি। তবে যাতায়াতের পথ নেই। শুষ্ক মৌসুমে জমির আইল ধরে কিংবা ঝোপঝাড়ে ভরা পথ দিয়ে স্কুলে যাতায়াতে সমস্যা হয় না। বিপত্তিটা বাধে বর্ষা মৌসুমে। চার পাশে পানি জমে গেলে মনে হয়, বিদ্যালয়টি যেন ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ। তখন নৌকা কিংবা ভেলা ছাড়া ওই স্কুলে যাতায়াতের আর কোনো উপায় থাকে না।

এমনই অবস্থা ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন- স্কুলে যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা ছিল। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে এলাকার এক প্রভাবশালী তার বাড়ির সীমানাপ্রাচীর দিয়ে পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি অবগত থাকলেও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

ওই সময়ের পর থেকেই রাস্তা না থাকার কারণে বর্ষা মৌসুমে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ডিঙি নৌকা কিংবা কলাগাছের তৈরি ভেলা। শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য এই পথটি ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- ১৯৮৮ সালে ৩৫ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি জাতীয়করণ হয় ২০১৩ সালে। পরে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় দুই তলা ভবন। ছয়জন শিক্ষক আর প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির ১২৪ শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই বলছেন- পূর্ব চর পাত্রখাতা গ্রামে প্রবেশের জন্য সেতু ও পাকা সড়ক থাকলেও বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়েই রয়েছে একটি নালা। শুষ্ক মৌসুমে ওই নালা পথ দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বর্ষায় আর সে উপায় থাকে না। স্থানীয়দের অভিযোগ- উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদারকির অভাবেই স্কুলে যাতায়াতের সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বর্ষায় সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর ঝুঁকি নিতে চান না অভিভাবকরা।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বন্যার সময় স্কুলে যেতে তাদের অনেক কষ্ট হয়। নৌকা বা ভেলায় চড়ে স্কুলে যায় তারা। কখনো বই-খাতা ভিজে যায়। তা ছাড়া নদীতে পড়ে যাওয়ার ভয়ও থাকে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক রিয়াজ বিন রানু বলেন- শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্নভাবে স্কুলে আসা যায়। কিন্তু বর্ষায় স্কুলের চারপাশে পানি জমে থাকে। স্কুলের সামনে নালাটি পার হয়ে যেতে হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাইনি। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মর্জিনা বেগম বলেন- স্কুলে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থীরা অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে। দ্রুত রাস্তা নির্মাণ করা না হলে বাকি শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কারণ ঝুঁকি নিয়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চায় না।

চিলমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু ছালেহ্ সরকার বলেন- শুকনো মৌসুমে রমনা মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাস্তাটি তৈরি করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

শিরোনামঃ