আজ ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১০ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

জয়পুরহাটে বিএনপির পদযাত্রা বনাম আওয়ামীলীগের শান্তি শোভাযাত্রা সংঘর্ষ: উভয়পক্ষে হতাহত ২৫

  • In সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ১৯ জুলাই ২০২৩ @ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১৯ জুলাই ২০২৩@১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জয়পুরহাটে বিএনপির পদযাত্রা বনাম আওয়ামীলীগের শান্তি শোভাযাত্রা সংঘর্ষ: উভয়পক্ষে হতাহত ২৫

।।জয়পুরহাট প্রতিনিধি।।

জয়পুরহাটে বিএনপির পদযাত্রায় আওয়ামীলীগের ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে আওয়ামীলীগের কর্মীরা বিএনপি’র জেলা কার্যালয় ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ শর্টগানের ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সংঘর্ষে উভয় দলের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়। আহতদের জয়পুরহাট জেলা আধুনিক ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল পৌঁনে ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও পুরানাপৈল ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম সৈকত, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া হোসেন রাজা, জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসান পবন, কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, সার্জিল আহম্মেদ ইফাদ, সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আবু কাহার, পৌর ছাত্রলীগ সদস্য তৃষাণ, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু রায়হান উজ্জল প্রধান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মামুনুর রশিদ প্রধান, সরকারি কলেজ শাখার সদস্য সচিব পিয়াস আহমেদ পৃথিবী, শহর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আল-আমিন, জেলা যুবদলের সদস্য রেজাহাত হোসেন রনি, জেলা যুবদলের সদস্য রাসেল তালুকদারসহ আরো অনেকে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিকেলে আওয়ামীলীগ জয়পুরহাট কেন্দ্রিয় মসজিদ সংলগ্ন জেলা কার্যালয়ের সামনে বিকেল চারটায় শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রার আয়োজন করে। সেখানে থেকে শান্তি মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের পর পৌঁনে ৫টার দিকে জেলা কার্যালয়ে ফেরার পথে রেল লাইনের পূর্বপাশে প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়। একই সময় শহরের নতুনহাট থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা স্টেশন রোড হয়ে পদযাত্রা নিয়ে তাদের পার্টি অফিসের পাশে রেলগেট এলাকায় এসে রেললাইনের পশ্চিম অংশে প্রধান সড়কে মাত্র বিশ গজ সামনে অবস্থান নেয়। তারা সরকার বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়লে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পথচারীসহ বিএনপি ও আওয়ামীলীগের অন্তত ২৫ জন নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাত পথচারী আহত হয়েছে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বিএনপির জেলা কার্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এ সময় পুলিশ শর্টগানের ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন,‘শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা শেষ করে দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়। এ সময় অতর্কিতভাবে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিনা উস্কানিতে ইটপাটকেল ছুঁড়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে সম্পূর্ণ আসবাব-পত্র ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেটে ১০-১২ জনসহ ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে।

তবে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মন্ডল বলেন, ‘শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা শেষে আমরা আমাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার সময় শোভাযাত্রার পিছনের অংশের নেতা-কর্মীর ওপর বিএনপির নেতা-কর্মীরা রেললাইনের পাথর ছুঁড়লে সংঘর্ষ হয়। এতে আমাদের অন্তত ১০-১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, ‘আওয়ামীলীগের শান্তি সমাবেশ ও বিএনপির পদযাত্রার শেষ সময়ে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শর্টগানের ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে’। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে’।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights