।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দেশের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎে এর সাথে যুক্ত হয়েছে। এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে সচেতন মহল জানিয়েছে। মাছ ও লবণ ব্যবসার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও গতি ফিরবে। কুতুবদিয়ায় ‘বিদ্যুৎময়’ নতুন দিন শুরুর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হল।
পিডিবি সূত্র জানায়, সমতল ও পাহাড়ি এলাকার পাশাপাশি সাগরের বুক চিরে গড়ে উঠা দ্বীপাঞ্চলের মানুষকেও জাতীয় গ্রিডের আওতায় আনতে ২০২০ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেয় পিডিবি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কুতুবদিয়া উপজেলা জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ নেওয়ার কাজ শুরু হয় সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে সাগরের তলদেশ দিয়ে।
এরমধ্যে কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ মহেশখালীর মাতারবাড়ি সাবস্টেশন ব্যবহার করছে। এই সাবস্টেশন থেকে পেকুয়ার মগনামা ঘাট ল্যান্ডিংস্টেশন হয়ে ডাবল সার্কিট সাবমেরিন লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ কুতুবদিয়ার সাবস্টেশনে পৌছেছে। সেখান থেকে সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ,সংযোগ ইতোমধ্যে গ্রাহকদের কাছে পৌছে দেওয়া শুরু করেছে পিডিবি। ধাপে ধাপে কুতুবদিয়ার সব মানুষ পাবেন জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সুবিধা।
প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত কুতুবদিয়ার মানুষ। তারা বলছেন- জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পেয়ে কুতুবদিয়ায় ফিশ প্রসেসিং জোন, লবণ কারখানা, বরফ মিল স্থাপনের পথ সুগম হওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। কম খরচে মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন।
স্থানীয়রা জানান,বিদ্যুৎহীন ঘরে থাকার কষ্ট শহরের লোকজন হয়তো বুঝবেন না। এখন বিদ্যুৎ পেলে জীবনযাপন সহজ হবে। ব্যবসায় সুবিধা হবে। কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছানোর মাধ্যমে পিডিবি দক্ষিণাঞ্চলের অধীন সব উপজেলা জাতীয় গ্রিডের আওতায় এলো।
কুতুবদিয়ায় আগে বায়ু বিদ্যুৎ এবং জেনারেটরের মাধ্যমে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও জাতীয় গ্রিডের বাইরে ছিল এই দ্বীপ উপজেলা। এখন দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পেলো। এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি মাইলফলক। সরকারের বড় অর্জন বলে মনে করছেন সংশ্লিস্ট মহল।





















