।।বিশেষ প্রতিবেদক।।
রাজধানী ঢাকায় গত মঙ্গলবার থেকেই থেমে থেমে কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা সমাগম কম। বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পশুর হাটের সীমানা ছেড়ে রাস্তায় চলে আসেন ব্যবসায়ী ও পাইকারেরা। তবে দাম গতবারের তুলনায় বেশি। বৃষ্টি উপেক্ষা করে এরপরও শেষ সময়ে কোরবানির পশু কিনতে হাটে যে ক্রেতারা আসছেন, বাজেটের মধ্যে পছন্দের পশু কিনতে তাদের এখন বিক্রেতার সঙ্গে দর কষাকষি করতে হচ্ছে।
সকাল ১০টার দিকে গাবতলী এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। ঈদের আগের দিন ক্রেতাদের উপস্থিতি আর কোরবানির পশুর দরদাম নিয়ে হাট যেমন সরগরম থাকার কথা, তেমনটা ছিল না। তবে কিছু কিছু ক্রেতাদের বৃষ্টির মধ্যেও কোরবানির পশু পছন্দ ও দর-কষাকষি করতে দেখা গেছে। অনেকে আবার বৃষ্টির মধ্যেই গরু কিনে ঘরে ফিরছিলেন। বাজারে ছোট আকারের দুটি গরু নিয়ে এসেছেন ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী আকবর আলী। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘হাটের ভেতরে কাস্টমার নাই। তাই রাস্তায় চইলা আইছি। দুই ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিইজাও খাড়াইয়া আছি। কিন্তু বেচতে পারতেছি না।’
দুপুরের দিকে রাজধানীর কমলাপুর পশুর হাটে বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও পানি জমে যায়। এর সঙ্গে পশুর বর্জ্য ছড়িয়ে যায়। মাঠের ভেতর জমেছে কাদাপানি। এসব মাড়িয়েই চলছে দর-কষাকষি আর বেচাকেনা। হাটে কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ইকবাল হোসেন। তার সঙ্গে দর-কষাকষি চলছে ক্রেতা আল-আমিনের। গরুর দাম হাঁকা হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে তা নামিয়ে ২ লাখ ১০ হাজারে এসেছেন বিক্রেতা। ক্রেতা এক লাখ ৮০ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখে উঠেছেন। এখন ১০ হাজার টাকা নিয়ে চলছে দর-কষাকষি। ক্রেতা বলছেন বাজেট ২ লাখ ছিল বলে দিয়েছি। এখন কেনার হাসিল ও অন্যান্য খরচ জোগাতে বাজেট বাড়াতে হবে। তাই আর দাম বাড়াতে পারব না। বিক্রেতা বলছেন, কুষ্টিয়া থেকে গরু এনেছি। তিনদিন ধরে হাটে ঘুম নেই নাওয়া-খাওয়া নেই। এখন যদি কিছু লাভ না হয় কষ্ট বিফল হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত ক্রেতার বড় ভাই ও বিক্রেতার মামার সমঝোতায় গরু বিক্রি হলো দুই লাখ ৫ হাজার টাকায়।
একই হাটের আরেক ক্রেতা জুয়েলের বাজেট ৯৫ হাজার টাকা। কিন্তু এক লাখের নিচে গরু পছন্দ হচ্ছে না তার। পরে বাজেট বাড়িয়ে এক লাখ ৮ হাজার টাকা দিয়ে গরু কেনেন। জুয়েল জানান, কোরবানির গরু সুন্দর না হলে মনে তৃপ্তি পাওয়া যায় না। এখন পছন্দ হয়েছে তাই ৮ হাজার টাকা বেশি দিয়ে গরু কিনলাম। দাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই ক্রেতা বলেন, দাম বেশি। গতকালও হাটে এসেছিলাম গরু কিনতে, কিন্তু পারিনি। আগামীকাল ঈদ, তাই আজকে বাজেট বাড়িয়ে কিনেছি। এক লাখ ৮ হাজার দিয়ে গরু কিনেছি। অন্যান্য খরচসহ এক লাখ ১৫ খরচ পড়বে। হিসাব করলে তো কেজি হাজার টাকা হয়ে যাচ্ছে। কোরবানির গরু তাই মানুষ হিসাব কম করে। সুন্দর হলে একটু বেশি দাম দিয়েই গরু কিনি।
হাটে গরুর সঙ্গে শেষ সময় ছাগলের বেচাবিক্রিও বেড়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে বেশি পড়েছেন ছাগল বিক্রেতারা। কারণ ছাগল বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডা লেগে অসুস্থ হয়ে যাবে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম পাচ্ছেন না বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। আর উল্টো দাবি ক্রেতাদের। ক্রেতারা বলছেন, গতবারের চেয়ে অনেক বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা।





















