বিপুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার।।
উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় চাষিরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে অন্যান্য ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। পাট চাষে উৎপাদন খরচ বাড়ছে কিন্তু বিক্রির সময় ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না চাষিরা। যে কারণে ধীরে ধীরে লালমনিরহাট জেলায় পাট চাষ বিগত সময়ের তুলনায় কমতে শুরু করেছে ।
পাট উৎপাদনে জমি নির্বাচন থেকে শুরু করে সব ধরনের পরিচর্যা সময়মতো সম্পন্ন করতে হয়। পাটের ভালো ফলনের জন্য সার, পানি, আগাছা ও নানা ধরনের ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এত কিছু করে পাট চাষে ব্যাপক খরচ হয়ে থাকে। অন্যদিকে মৌসুমি সিন্ডিকেট কারণে পাটের উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দাম পাওয়ায় পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে পড়ছেন কৃষকরা।
লালমনিরহাট সদরের কৃষক মোখলেসুর রহমান(৫৬) বলেন, বিগত বছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে হিসাব মিলিয়ে দেখি লোকসান হয়েছে। তাই এ বছর পাট চাষ করিনি। লালমনিরহাটে বিগত সময়ের তুলনায় পাট চাষ কমে যাচ্ছে এ বিষয়ে কৃষক বকুল মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, পাট চাষে ব্যাপক খরচ হচ্ছে অন্যদিকে তেমন সন্তুষ্ট জনক মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে না, পাট উৎপাদনে তাই আপাতত পাটের আবাদ বাদ দিয়ে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, সামনের দিনে বাজার ভালো পেলে অবশ্যই পাট আবাদ করবে বলে জানিয়েছেন।
পাট চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছে অন্যদিকে মৌসুমি সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয় কৃষকেরা পাট বিক্রি করে সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না- এমন প্রশ্নের উত্তরে লালমনিরহাট সদর এলাকার পাট ব্যবসায়ী মানিক মহাজন বলেন, কোম্পানি যেরকম দাম নির্ধারণ করে ঠিক তেমনিভাবে আমরা পণ্য ক্রয় করে থাকি। পাট চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছে তার অন্যতম কারণ হচ্ছে, বর্তমানে উৎপাদন করতে যে কীটনাশকসহ অন্যান্য প্রসেসিং করতে কৃষকদের যে পরিমাণ ব্যয় হয় তাই পাট-চাষে আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
কি কারনে লালমনিরহাটে পাট চাষে কৃষকরা দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছে, এমন প্রশ্ন উত্তরে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি লালমনিরহাটের কৃষিবিদ আবু জাফর মোহাম্মদ সাদেক বলেন, আউশের ও শাকসবজির আবাদের ফলে গতবারের তুলনায় এবার ১৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ কম হয়েছে । তবে অন্যান্য আবাদ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা কৃষকদের পাট উৎপাদনে সক্ষমতার বৃদ্ধি ও প্রস্তুতি নিয়েছি যেন উৎপাদনে আগ্রহী হয় চাষিরা।





















