আজ ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

বগুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মঃ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • In সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ২৬ জুন ২০২৩ @ ০৬:১১ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২৬ জুন ২০২৩@০৬:১১ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মঃ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ছবি- বিডিহেডলাইন্স

রায়হান পারভেজ
শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি।।

বগুড়ার শেরপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভূমিহীনদের মাঝে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণে আবারো নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চলতি প্রকল্পে নির্মাণকাজে নিন্মমানের সামগ্রী সরবরাহের মাধ্যমে এসব ঘর নির্মাণ করায় ঝুঁকিপূর্ন ও ব্যবহার অনুপযোগী হতে চলেছে। তবে নির্মাণকৃত ঘরগুলো হস্তান্তরের আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বর্তমান সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিন্মমানের সামগ্রীর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ একই এলাকার তিন এলাকাবাসী। তবে অভিযোগকারীদের বিষয়ে বাস্তবে কোন সত্যতা নেই, ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২-এর আওতায় ৪র্থ ধাপে উপজেলায় ১৭১টি ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন পরিবারকে ঘর দেয়ার কাজ চলছে। এসব উপকারভোগীরা নিজ নামে দুই শতাংশ জমি একটি সেমিপাকা গৃহ নির্মাণ পাবে। প্রতিটি গৃহ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। সে মোতাবেক প্রকল্পের কাজও শেষের দিকে। অচিরেই বসবাস শুরু করবে এসব ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্ত উপকারভোগীরা।

তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাগজকলমে ভূমিহীনদের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হলেও বাস্তবে ওইসব গৃহ নির্মাণকাজ এখন চলছে। এরইমধ্যে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের আয়রা মৌজায় ৩০টি ভূমিহীন পরিবারের জন্য গৃহ নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব কাজে নিন্মমানের সামগ্রী (ইট, বালি, কাঠ) ইত্যাদি সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। তাছাড়া এসব সামগ্রী সরবরাহ করছে খোদ একই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম।

অভিযোগকারী মির্জাপুর ইউনিয়নের আয়রা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে শাহ আলম জানান- তাদের (আয়রা) গ্রামে ৩০টি ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ নিম্নমানের বালু ও কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে।

একইভাবে অপর দুই অভিযোগকারী মৃত মোবারক খানের স্ত্রী এলেজা খাতুন ও ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের বলরামের ছেলে কৃষ্ট গোপাল জানান- ভূমিহীনদের ঘর তৈরীতে যেসব কমদামের সামগ্রী ব্যবহার করেছে তাতে করে এসব ঘর বেশিদিন টিকবে না এবং ব্যবহারের অযোগ্য হবে। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিজস্ব ভাটার নিন্মমানের ইট ও তার সরবরাহ করা বালি ও কাঠ নিন্মমানের।

তবে সচেতন মহলের অভিযোগ উপজেলার ভূমিহীনদের নামে দুই শতাংশ খাসজমি বরাদ্দ থেকে শুরু করে ঘর নির্মাণ কাজের প্রতিটি ধাপে অনিয়ম নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় ভেঙ্গে পড়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। যার ফলে নির্মাণকৃত ঘরগুলো হস্তাস্তরের আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বর্তমান সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভূমিহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণকাজে কোন অনিয়ম করা কোন প্রশ্নই উঠেনা। তাছাড়া প্রকল্প চলাকালীন সময় থেকে নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা তদারকি করে আসছে। তারা কি অনিয়ম হলে আমাকে ছেড়ে দিবে! এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামছুন্নাহার শিউলী বলেন এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে পারবো না।

সংশ্লিষ্ট শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা বলেন এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক স্যারের কাছ থেকে আমার কাছে কোন নিদের্শনাও আসেনি। তবে আসলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান আমি এখনো অভিযোগ পাই নাই অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights