আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সাংবিধানিক পথেই যেভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার হতে পারে

  • In শীর্ষ
  • পোস্ট টাইমঃ ২৩ জুন ২০২৩ @ ০৬:২০ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২৩ জুন ২০২৩@০৬:২০ অপরাহ্ণ
সাংবিধানিক পথেই যেভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার হতে পারে

।।বিশেষ প্রতিবেদক।।

বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে এবং এ ব্যাপারে তাদের কোনো প্রকার ছাড় দেয়ার মানোভাব দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনের আর মাত্র ছয় মাসের মতো সময় বাকী থাকতে দুই প্রধান দলের মধ্যে এই অনাস্থা ও বিরোধপূর্ণ অবস্থান রাজনীতিতে সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিএনপিসহ বিরোধীদের দাবি, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে কোনভাবেই তারা তা মেনে নেবে না। কেননা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা সুষ্ঠু হবে না। অন্যদিকে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন সরকার বলছে, আদালত কর্তৃক বাতিল ঘোষিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কোনভাবেই আর ফেরানো হবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশ্ন যদি হয় সুষ্ঠু নির্বাচনের; তাহলে সাংবিধানিক পথেও নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে তা করা সম্ভব।

সবশেষ বুধবারও আওয়ামী লীগ প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে আরো একবার দলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে বিএনপি আয়োজিত এক সেমিনারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন আন্দোলনের মাধ্যমে এবার নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে ক্ষমতাসীনদের বাধ্য করা হবে। বিএনপি এবং সমমনা দলগুলো বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। তবে সরকারি দল বলছে এই দাবি মানার কোনো সুযোগ নেই এবং সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনঢ় অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ।

বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতার হবে কিনা বা দলগুলো একে অপরকে কোনো ছাড় দেবে কিনা সেটি স্পষ্ট হচ্ছে না। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাও তাদের দলীয় অবস্থানের পেছনে যুক্তি তুলে ধরছেন যেখানে সমস্যা সমাধানের কোনো ইঙ্গিত মিলছে না।

আওয়ামী লীগের আন্দোলন ও দাবির মুখে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়েছিল সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে । ২০১১ সালে এ ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে উচ্চ আদালতের একটি রায়ের ভিত্তিতে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। বর্তমানে সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই। কিন্তু আইনের মধ্যে থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দুটি বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। একটি সর্বদলীয় সরকার এবং আরেকটি হচ্ছে সরকার প্রধানের পদত্যাগের। “আওয়ামী লীগের যারা মন্ত্রী আছেন, ধরেন পঞ্চাশ জনের মতো, এটাকে কমিয়ে দশ-বারো জনের মন্ত্রীসভা করতে পারে। কিন্তু ওই মন্ত্রিসভার সদস্য হতে হবে সংসদ সদস্যদের। তর্কের খাতির যদি বিশ জনের ছোটো মন্ত্রিসভা হলো এবং দুজন টেকনোক্রাট নেওয়া যায় এবং তাদের নিয়ে ধরেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হলো। আরেকটা অপশন হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করলেন কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী আওয়ামী লীগেরই অন্য কোনো সংসদ সদস্য তখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন,” বিবিসি বাংলাকে বলেন শাহদীন মালিক।

বর্তমান সংবিধানে সপ্তম ভাগে ১২৩ অনুচ্ছেদে নির্বাচন প্রসঙ্গে দুটি বিষয় উল্লেখ রয়েছে। যেটি হলো – “মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে অথবা মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।”শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানে নির্বাচনের সময় সংক্রান্ত দুটো বিধান আছে। একটা হলো সংসদ ভেঙ্গে দিলে। সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেশে রাষ্ট্রপতি যেকোনো সময় সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।

“সংসদ ভেঙ্গে দিলে ভেঙ্গে যাওয়া দিন থেকে তখন হবে কি যারা সংসদ সদস্য ছিলেন তারা আর আসনে থাকবেন না এবং নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে।”মালিক বলেন, “আমাদের গত ২০১৪ এবং ১৮’র নির্বাচনে কিন্তু সংসদ রেখে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের সময় সংসদ ভেঙ্গে দিলে বিরোধীরা কিছুটা হয়তো সমতার ব্যাপারটা চলে আসবে। সরকারি দলের বা যেই নির্বাচন করুক কেউই সংসদ সদস্য না। তখন কিছুটা হয়তো ফেয়ারপ্লে হবে।”

তবে বর্তমান সংবিধান সমুন্নত রেখে আইনের মধ্যে থেকে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া বা নির্বাচনকালীন মন্ত্রীসভা গঠন করে সেখানে টেকনোক্র্যাট হিসেবে বিরোধী দলকে নেয়া বা শেখ হাসিনার পদত্যাগের মতো বিষয়ে রাজনৈতিক ঐক্যমত্য হবে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেন এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বর্তমান সরকারের অধীনে সব ধরনের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে, উপনির্বাচন কোথাও দলীয় প্রার্থী দিচ্ছেনা দলটি। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে একদিকে রাজপথে আন্দোলন করছে আবার সভা সেমিনার করে দেশি বিদেশি জনমত গঠনেও রয়েছে সচেষ্ট দলটি।

বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচকালীন সরকারের যে বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে সেটিও বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ে পরবর্তী আরো দুটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ ছিল। তাই সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থাই করতে হবে।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights