আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

গ্রামের কৃষিতে বিদেশী ফলঃ পাঁচ উদ্ভাবনী সাফল্য

গ্রামের কৃষিতে বিদেশী ফলঃ পাঁচ উদ্ভাবনী সাফল্য
ছবি- বিডিহেডলাইন্স

নজরুল ইসলাম দয়া
নন্দীগ্রাম, বগুড়া।|

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষিতে দেশী ফলের পাশাপাশি বিদেশী ফল চাষে উদ্যোক্তা বাড়ছে। পরীক্ষামূলক চাষে যুক্ত হয়েছে স্ট্রবেরী, সৌদি খেজুর, মালটা, কমলা, সূর্যমূখী, অফসিজন তরমুজসহ নানা ধরনের ফসল।

নিরাপদ ও জৈব সবজি উৎপাদনের জন্য জৈব সার, ভার্মি কম্পোস্ট ও ট্রাইকো-কম্পোস্ট উৎপাদনও বাড়ছে। কৃষি বিভাগের নিয়মিত সেবা প্রদানের পাশাপাশি ৫টি উদ্ভাবনী বিশেষ সেবা হিসেবে প্ল্যান্ট ডক্টর মোবাইল টিম, ছাদ কৃষি লার্নিং সেন্টার, ফারমার্স আইটি স্কুল, ভ্রাম্যমান কৃষি পাঠাগার এবং কৃষকের গল্প নামে কার্যক্রমগুলো সফলপ্রায়। অনলাইন ভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজ চালু করেছেন নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আদনান বাবু। উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই অনলাইনে কৃষি বিষয়ক নানা পরামর্শ ও নির্দেশনা পাচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার আমড়া গোহাইল এলাকার উদ্যোক্তা আবু হানিফা ২০২০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি সৌদি খেজুর গাছ রোপন করেন। চলতি বছরের শুরুতে তার দুটি গাছে ফল এসেছে। স্ট্রবেরী চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন চাকলমা এলাকার জাব্বির হোসেন। মালটা চাষ করেছেন হাটকড়ই এলাকার আব্দুল জব্বার। ড্রাগন চাষ করছেন সিংজানী এলাকার আব্দুল হালিমসহ অনেকেই। জৈব সার উৎপাদন করছেন গোপালপুরের সুকুমার চন্দ্র, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন দারিয়াপুরের শাকিল ও ট্রাইকো-কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন সিংজানীর আনিছুর রহমান। দিনদিন উদ্যোক্তা সংখ্যা বাড়ছেই।

কৃষি বিভাগ জানায়, ছাদ কৃষিকে জনপ্রিয় করার লক্ষে উপজেলা কৃষি অফিস ভবনের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে ‘ছাদ কৃষি লার্নিং সেন্টার’। সেখানে বিভিন্ন ধরনের দেশী-বিদেশী ফল, ফুল, সবজি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাগানো হয়েছে। প্রতিটি গাছের সাথে বাংলা-ইংরেজি নাম এবং বিশেষ গুনাগুণ-বৈশিষ্ট্যসহ নেমপ্লেট লাগানো রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ, কৃষি সেবাগ্রহীতা, ছাত্র-ছাত্রীসহ অনেকেই কৃষি অফিস ভবনে যাচ্ছেন। দর্শনার্থীরা নানা কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে জানছেন এবং শিখছেন। এছাড়া প্ল্যান্ট ডক্টর মোবাইল টিমের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ কৃষি সেবা দেওয়া হচ্ছে।

ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে প্রেসস্ক্রিপশন দেয়া, আধুনিক কৃষি প্রযু্িক্ত ও জাত সম্প্রসারণ, কৃষি আবহাওয়া সম্পর্কে সচেতন করা, নিরাপদ ও জৈব কৃষি উপকরণ প্রদর্শণ, কৃষি উদ্যোক্তা গঠন, কৃষি লিফলেট বিতরণসহ আধুনিক ও রপ্তানীমূখী কৃষি গড়ে তোলার কার্যক্রম। আইটি সম্পর্কিত কৃষি সেবাগুলো সহজে প্রাপ্তির জন্য রয়েছে ফারমার্স আইটি স্কুল। ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি সেবা কার্যক্রমকে আরো সহজীকরণ করতে কাজ করছে এই স্কুল। এতে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিও কমেছে। কৃষির নানা আধুনিক তথ্য এবং প্রযুক্তিগুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ ভ্রাম্যমাণ কৃষি পাঠাগার। উপজেলা কৃষি অফিস চত্তরে সপ্তাহে একদিন করে বসে এই পাঠাগার। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে কৃষিতে আগ্রহী করার জন্য ভ্রাম্যমাণ কৃষি পাঠাগারটি বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাসে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে কৃষি ও কৃষকের অনলাইন ভিত্তিক কৃষি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ‘কৃষকের গল্প’ শিরোনামে ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজ চালু করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আদনান বাবু বলেন, নিয়মিত কৃষি সেবা প্রদানের পাশাপাশি নতুন ৫টি উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে কৃষি বিভাগ এবং কৃষকদের মাঝে সেবা আদান-প্রদানের নিবিড় সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। কৃষির সাথে সম্পৃক্ত সকল শ্রেনীপেশার মানুষের দোড়গোড়ায় কৃষি সেবা পৌঁছানোর পাশাপাশি আধুনিক, নিরাপদ, বানিজ্যিক কৃষি গঠন এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরীতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এই উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights