আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

বস্তি এলাকায় পুলিশ নিয়ে ভোটার খুঁজেছে কমিশন: হিরো আলম

  • In রাজনীতি
  • পোস্ট টাইমঃ ১৮ জুন ২০২৩ @ ০৫:২১ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১৮ জুন ২০২৩@০৫:২১ অপরাহ্ণ
বস্তি এলাকায় পুলিশ নিয়ে ভোটার খুঁজেছে কমিশন: হিরো আলম
আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। - ছবি : সংগৃহীত

।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ভোটার জটিলতায় আসন্ন ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে হিরো আলমের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন ইসি। তবে হিরো আলমের দাবী গুলশান, নিকেতন ও বনানী এলাকার ভোটারের কাছে যায়নি কমিশন। তারা কড়াইল বস্তি এলাকায় পুলিশ নিয়ে ভোটার খুঁজতে গেছে। বস্তি এলাকার মানুষ পুলিশ দেখলে এমনিতেই ভয় পায়। তারা সিভিল ড্রেসে যেতে পারতো।

রবিবার (১৮ জুন) আগারগাঁওয়ের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) মনোনয়ন বাছাই করে মো. মুনীর হোসাইন খান জানান, ১৫ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এরমধ্যে বাছাইয়ে সাত জনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। বাকি আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

আইনে আছে যেকোন সংসদীয় আসনে নির্বাচন করতে হলে এক শতাংশ ভোটারের নাম ও স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই এক শতাংশ ভোটার ও তাদের স্বাক্ষর নিতে পারেনি হিরো আলম। রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিনিধি দল সরেজমিন ঘুরে হিরো আলমের দেওয়া এক শতাংশ ভোটারের হুদিস পায়নি। এজন্যই হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান।

এ প্রসঙ্গে হিরো আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনার বলেন আর আমার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী যারা আছে তারা আমাকে দেখে ভয়ই পায় কি জানি না। তারপরেও প্রার্থী ফিরে পাই। কিন্তু ফিরে পেলে কি করবো, জয়ী হয়েও ছিনিয়ে নেয়া হয়।
আদালতে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনারা যে ভোটারের সংখ্যার কথা বলেছে তা আমি দিয়েছি। বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, ঋণ খেলাপি, মামলাসহ কোন কিছুই দোষ খুঁজে পায়নি।বার করছে কি তারা(নির্বাচন কমিশন) দশজন ভোটার নাকি খুঁজে পায়নি। কিন্তু আমার ভোটাররা এখানে উপস্থিত আছে তারা স্বাক্ষরও করছে।

আপনারা যদি চান তাহলে ভোটারের সঙে্‌গ কথা বলতে পারেন। তারা নাকি আমার দশটা ভোটার খুঁজে পায়নি। নির্বাচন কমিশন থেকে আমাকে ফোন দেয়া হয় তারা নাকি আমার ভোটার খুঁজে পায় না। তখন আমি তাদের নিজেই সহযোগিতা করি। আমরা একমাস ধরে ৩ হাজার ৩০০ ভোটারের নাম সংগ্রহ করেছি। অথচ তারা পেল না। আমার ভোটারদের তারা ভালো করে খোঁজেনি।

আদালতে যাবেন কি না? এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর আগেও আমি হাইকোর্টে গিয়ে প্রার্থীতা নিয়ে এসে ভোট করছি। কিন্তু ভোটে পাশও কিন্তু ফলাফল হয়। এর পরও যদি আমি চেষ্টা করে প্রার্থীতা নিয়ে আসি, ভোটের ফলাফল জিরো পাবো কিনা তাও জানি না। মামলা করবো কিনা ভোট করবো কি না তা জানাবো।

ভোটে ক্লান্ত কি না? তিনি বলেন, না আমি ভোটে ক্লান্ত না।ভোট করার মতো এনার্জি গায়ে আছে। জনপ্রিয়তাকে ভয় পায় কি না? জনপ্রিয়তা ভয় যদি নাহি পাবে তাহলে বার বার আমার প্রার্থীতা বাতিল কেন করা হয়। বার বার কেন আমাকে হ্যারেজমেন্ট করা হইলো। ভোটে পাশ করলেও কেন আমাকে ক্ষমতায় বসানো হয় না। প্রতি বার আমার প্রার্থীতা বাতিল করছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি কোর্টে গেলে আমার প্রার্থীতা ফিরে পাবো। কারণ সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। তবে আমি অবশ্যই আদালতে যাবো প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার জন্য।

যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, জাতীয় পার্টির জিএম কাদেরপন্থী সিকদার আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. রেজাউল ইসলাম স্বপন, গণতন্ত্রী পার্টি মো. কামরুল ইসলাম (চেয়ারম্যান মনোনয়ন দিয়েছে), গণতান্ত্রী পার্টি অশোক কুমার ধর (মহাসচিব মনোনয়ন দিয়েছে), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এর মো. আকতার হোসেন, তৃণমূল বিএনপি’র শেখ হাবিবুর রহমান,
যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, জাকের পার্টির কাজী মো. রাশিদুল হাসান, জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদপন্থী মো. মামুনূর রশিদ, মো. তারিকুল ইসলাম ভূঞাঁ ( স্বতন্ত্র), আবু আজম খান (স্বতন্ত্র), আশরাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম), মুসাউর রহমান খান (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর মো. মজিবুর রহমান ও শেখ আসাদুজ্জামান জালাল। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা চাইলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ জুন। পরদিন হবে প্রতীক বরাদ্দ। সবশেষে ১৭ জুলাই সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারে ভোট নেওয়া হবে৷ গত ১৫ মে চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠানের (ফারুক) মৃত্যু হলে আসনটি শূন্য হয়।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights