আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

সেন্ট্রাল হাসপাতালে সন্তান হারানো সেই আঁখিও মারা গেলেন

  • In স্বাস্থ্য
  • পোস্ট টাইমঃ ১৮ জুন ২০২৩ @ ০৫:১৫ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২১ জুন ২০২৩@০১:২৭ অপরাহ্ণ
সেন্ট্রাল হাসপাতালে সন্তান হারানো সেই আঁখিও মারা গেলেন

।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাজধানীর গ্রিনরোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুঝুঁকিতে পড়া মাহবুবা রহমান আঁখির মৃত্যু হয়েছে। রোববার বেলা পৌনে ২টার দিকে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে সময়ের আলোকে জানিয়েছেন আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী সুমন।

তিনি বলেন, একটু আগে আঁখি মারা গেছে। ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন।এর আগে সকালে ইয়াকুব আলী জানিয়েছিল, রোগীর কোন ইমপ্রোভ হচ্ছে না, বরং অবনতির দিকে যাচ্ছে। ব্লিডিংটা কিছুটা কমেছিলো, কিন্তু শনিবার থেকে আবার বেড়ে গেছে। এই সময়ে আবার ৫ ব্যাগ রক্ত কালেকশন করে দিয়েছি। রোববার দুপুর পর্যন্ত এগুলো চলবে। ডাক্তার আজকে আবার রোগীর পরিস্থিতি দেখে আবার জানাবে।

উল্লেখ্য, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মাহবুবা রহমান আঁখি অস্ত্রোপচার ছাড়া সন্তান জন্ম দিতে চেয়েছিলেন । এ জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘেঁটে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সংযুক্তা সাহার শরণাপন্ন হয়েছিলেন। গর্ভে সন্তান আসার পর থেকে নিয়মিত সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাহবুবা রহমান আঁখি। গত ৯ জুন (শুক্রবার) প্রসব ব্যথা ওঠায় গত প্রসব ব্যথা ওঠায় রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হসপিটালে ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে ভর্তি করা হয় আঁখিকে।

কিন্তু হাসপাতালে তাকে সেই চিকিৎসকের অধীনে ভর্তি করা হলেও ডা. সংযুক্তা সাহা দেশেই ছিলেন না। অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তখন অস্ত্রোপচর করে বাচ্চা বের করা হয়। পরদিন মারা যায় শিশুটি। পরে ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী মাহবুবা রহমান আঁখির অবস্থাও খারাপ হলে ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়।
ওই ঘটনায় আঁখির স্বামী মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী বুধবার রাতে ধানমণ্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন। সেখানে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে তিনি আসামি করেছেন।

যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা ও ডা. মুনা সাহাকে বুধবার রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বাকি আসামীরা হলেন ডা. মিলি, ডা. এহসান, অধ্যাপক সংযুক্তা সাহার সহকারী জমির এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপক পারভেজ।
আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলীর অভিযোগ, সংযুক্তা সাহার অনুপস্থিতির বিষয়টি না জানিয়েই সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন করে। সেখানে গাফিলতির কারণে তার সন্তানের মৃত্যু হয়, এমনকি সন্তানের মৃত্যুর চারদিনেও তার লাশ দেখতে দেওয়া হয়নি।

এঘটনায় রাজধানীর গ্রিনরোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেই সঙ্গে ড. সংযুক্তা সাহাকে চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত না থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানীর গ্রিনরোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু ও মা মৃত্যুশয্যায়-এমন অভিযোগে গ্রেফতার দুই চিকিৎসকের মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। শনিবার বিএমএ দপ্তর সম্পাদক ডা. মোহা. শেখ শহীদ উল্লাহর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights