আজ ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ এবং ১২ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংক কর্মকর্তার যাবজ্জীবন

  • In আইন ও অপরাধ
  • পোস্ট টাইমঃ ২ জুন ২০২৩ @ ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ২ জুন ২০২৩@০৮:৩৪ অপরাহ্ণ
গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংক কর্মকর্তার যাবজ্জীবন

।।বিডিহেডলাইন্স ডেস্ক।।

গ্রাহকের হিসাব থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে তহবিল স্থানান্তর করে আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা ইফতেখারুল কবিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

একই সঙ্গে ব্যাংকটির গ্রাহক আবদুল মাবুদকে ১২বছর এবং জাকের হোসেন বাপ্পীকে সাড়ে ৬বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় আসামি বাপ্পীর স্ত্রী ফারজানা হোসেন ফেন্সীকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বিচারক। বৃহস্পতিবার (১জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মুন্সী আবদুল মজিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ইফতেখারুল কবিরকে আরও ২৪বছর কারাদণ্ড, ১কোটি ৭৩লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৯বছর ৮মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক। এ পর্যন্ত ইফতেখারুলকে দুদকের করা তিনটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন আদালত। অন্যদিকে দুই গ্রাহকের মধ্যে আবদুল মাবুদকে ৮৫লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১বছর ১১মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইভাবে জাকের হোসেন বাপ্পীকে ৩২লাখ ৫০হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১১মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।

পৃথক ৬টি ধারায় এ দণ্ড হলেও ইফতেখারুল কবিরকে দুটি ধারার সাজা আলাদা হিসেবে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন হিসেবে ৩০বছর এবং ৪৬৭ধারার আলাদা ১০বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন আদালতে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু।

আদালত সূত্রে জানা গেছে- ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের প্রায়োরিটি ব্যাংকিং ম্যানেজার মোঃ ইফতেখারুল কবির নগরীর চান্দগাঁও শাখায় দায়িত্ব পালনকালে গ্রাহক আবদুল মাবুদ ও জাকির হোসেন বাপ্পীর সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংকটির আরেক প্রবাসী গ্রাহক সুফি মোহাম্মদ হোসেন গণি নামে এফডিআর না খুলে পরবর্তীকালে ভুয়া হিসাব সৃষ্টি করে অন্য গ্রাহকের হিসেবে ট্রান্সফার করে ১কোটি ৯২লাখ ৬১হাজার ৩৪৫টাকা আত্মসাৎ করেন।

২০১৬থেকে ২০১৯সালের বিভিন্ন সময়ে এ ঘটনা ঘটলেও গ্রাহক ২০১৯সালের ১৮এপ্রিল বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর গ্রাহকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়। এ নিয়ে থানায় মামলা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ইফতেখারুল কবিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।

ওই মামলা তদন্ত শেষে ইফতেখারুল কবির, গ্রাহক আবদুল মাবুদ ও জাকির হোসেন বাপ্পীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এ ধরনের বিভিন্ন গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ১১টি মামলা হয় ইফতেখারুল কবিরের বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯-সহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে বিচার প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।

অ্যাডভোকেট কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু বিডি হেডলাইন্সকে বলেন, মামলার তিন আসামি গ্রেফতার হয়ে হাজতে ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তাদের আদালতে হাজির করা হয়। পরবর্তী সময়ে সাজা পরোয়ানামূলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

এমকে/তারিখ:০২০৬২৩/২০:৩৩

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights