আজ ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ এবং ১৬ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে ২৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল তালিকা

  • In সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ৫ ডিসেম্বর ২০২৩ @ ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৫ ডিসেম্বর ২০২৩@১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে ২৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল তালিকা

।।বগুড়া প্রতিনিধি।।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে ৮৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

যাচাই-বাছাইকালে মনোনয়নপত্রে তথ্যগত ত্রুটি, ঋণ খেলাপি, সমর্থনকারীর স্বাক্ষর সঠিক না থাকা ও সমর্থনসূচক ভোটার তালিকায় গরমিল থাকাসহ বিভিন্ন কারণে ২৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে রোববার (৩ ডিসেম্বর) থেকে সোমবার (৪ ডিসেম্বর) পর্যন্ত দুইদিন ব্যাপী বগুড়া-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ এবং ৭ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মনোনীত প্রার্থী ইবনে সাফি বিন হাবিবের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে তার নামে ঋণ খেলাপি থাকার কারণে মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এই আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মো. ইউনুস আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই প্রার্থী প্রস্তাবক ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষরের স্থানে প্রার্থী নিজেই স্বাক্ষর করার কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়।

বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) সংসদীয় আসনে ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এই ৭ প্রার্থীই স্বতন্ত্র। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অজয় কুমার সরকারে বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে। যা তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এই আসনের নৌকার প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম খান রাজুর ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী বাদ পড়েছেন। মনোনয়নপত্রে দেওয়া তার তথ্যে এক শতাংশ সমর্থনযুক্ত ভোটারের সাক্ষরের তথ্য সঠিক না হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

একইভাবে সমর্থনযুক্ত ভোটারের স্বাক্ষরের তথ্যে ভুল থাকায় বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এরশাদুল হক টুলু, আওয়ামী লীগের সমর্থক ড. জামিলুর রশিদ তালুকদার, বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ, দুপচাঁচিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজাল হোসেন এবং জাতীয় পার্টির থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র জাকারিয়া হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়পত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করার চারটি কারণ উল্লেখ করে তার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এই আসনের এনপিপির প্রার্থী মনোয়ার জাহিদের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই প্রার্থী তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর স্থানে নিজেই স্বাক্ষর করেন। এছাড়া তৃণমূল বিএনপির মো. জালাল উদ্দিনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় প্রার্থী, প্রস্তাবকারী এবং সমর্থণকারী কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আয়কর সংক্রান্ত দলিলাদিও দাখিল করেননি।

বগুড়া-৫ (শেরপুর ও ধুনট) আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। প্রস্তাব ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আব্দুন নূর ও ঋণ খেলাপী হওয়ায় জাতীয় পার্টির মো. ওমর ফারুকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

বগুড়া-৬ (সদর) সংসদীয় আসনে মোট ভোটারের ১ ভাগ সমর্থনসূচক ভোটার তালিকায় গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী নয়ন রায়, মুসক ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় জাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ এবং ঋণ খেলাপী ও মোট ভোটারের ১ ভাগ সমর্থনসূচক ভোটার তালিকায় গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ কবির আহম্মেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর) সংসদীয় আসনে ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনই স্বতন্ত্র। মোট ভোটারের ১ ভাগ সমর্থনসূচক ভোটার তালিকায় গরমিল থাকায় নজরুল ইসলাম মিলন, মো. আতাউর রহমান, মো. আমজাদ হোসেন, মো. আসাফুদৌলা সরকার, মো. ছারোয়ার হোসেন, মো. জুলফিকার আলী, মো. মানিকুর রহমান ও মো. মেজবাউল আলম। ভোটারের ১ ভাগ সমর্থনসূচক ভোটার তালিকায় গরমিল থাকার পাশাপাশি মুসক বকেয়া থাকায় মো. আমিনুল ইসলাম ও মোস্তাফিজার রহমান মিলুর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঋণ খেলাপী ও ভোটারের সমর্থনসূচক ভোটার তালিকায় গরমিল থাকায় অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম এবং দলীয় মনোনয়নপত্র সঠিক না থাকায় জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী মো. রাকিব হাসানের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে।

বাতিলকৃত প্রার্থীরা আগামী ৫ থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights