আজ ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ এবং ১৬ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

কক্সবাজার এক্সপ্রেসে খাবারের মান ও লোকবল সংকটের অভিযোগ

  • In সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ১ ডিসেম্বর ২০২৩ @ ১০:১১ অপরাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ১ ডিসেম্বর ২০২৩@১০:১১ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার এক্সপ্রেসে খাবারের মান ও লোকবল সংকটের অভিযোগ
ছবি- বিডিহেডলাইন্স

শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি।।

অবশেষে নবনির্মিত কক্সবাজার-ঢাকা রুটে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে ট্রেনে যাত্রী পরিবহন। যাত্রীরা এই রুটের প্রথম ট্রেন কক্সবাজার এক্সপ্রেসে উঠতে পেরে আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। তবে খাবারের মান ও লোকবল সংকটের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন যাত্রী।

শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছাড়ে। প্রথমদিন ১৫টি বগিতে ৭৮০ জন যাত্রী নিয়ে এ ট্রেন কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের আবেদনের মুখে আরও চারটি বগি বাড়িয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ইঞ্জিনসহ ২০টি বগি নিয়ে কক্সবাজার স্টেশন ছাড়ে টেনটি। এতে যাত্রী ছিলেন এক হাজার ২০ জন।

জানে আলম নামে এক যাত্রী বলেন, ‘দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ট্রেন ছেড়েছে। দুপুরের খাবার ট্রেন থেকে কিনে খেতে হয়েছে। আমিসহ যারা খাবার কিনেছেন তাদের খাবার ছিল বাসি। বিরিয়ানিতে মাংস ভালো করে সিদ্ধ হয়নি। যা ছিল খাবার অনুপযোগী। খাবারের মান আরও ভালো করতে হবে।’

আপেল মাহমুদ নামে অপর এক যাত্রী বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলাম। প্রথম ট্রেনের যাত্রী হতে পেরে ভালো লাগছে। তবে ট্রেনে পর্যাপ্ত লোকবল সংকট। কোনও প্রয়োজনে সহজে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না।’

কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিনের ম্যানেজার মো. ইমন বলেন, ‘খাবারের দাম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। বাইরের রেস্টুরেন্টের সঙ্গে মিল রেলে এখানে খাবারের দাম রাখা হয়েছে। এখানে চিকেন বিরিয়ানি ১৭০ টাকা, চিকেন ফ্রাই ৮০ টাকা, দুধ চা ২০ টাকা, র চা ১৫ টাকা, কফি ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’

রেলওয়ে সূত্র জানায়, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন থেকে ছাড়ার পর ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ৯টা ৫ মিনিটে। একইভাবে রাত সাড়ে ১০টায় ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে। ভোর ৪টায় এ ট্রেনটি চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে কক্সবাজার পৌঁছাবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে।

ট্রেনটিতে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম আসেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির। তিনি চট্টগ্রাম স্টেশনে নামার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘কক্সবাজার পর্যন্ত এ ট্রেন যাত্রীদের কাছে আরামদায়ক হবে। যাত্রীর চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে জানুয়ারি থেকে কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।’

কক্সবাজার এক্সপ্রেস দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছায় বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে। চট্টগ্রামে বিরতিতে কথা হয় এ ট্রেনের যাত্রী ঢাকা লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সজীব সরকারের সঙ্গে। তিনি ছয় মাসের শিশু কন্যা স্বস্তিকা সরকার এবং স্ত্রী ডা. প্রিয়াংকা সরকার শ্যামাকে নিয়ে কক্সবাজার থেকে এ ট্রেনে ঢাকায় যাচ্ছেন।

সজীব সরকার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে বিমানে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার যাই। শুধু প্রথম ট্রেন কক্সবাজার থেকে আসার জন্য আমি কক্সবাজার গিয়েছি। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দুই পাশের অপরূপ দৃশ্য সত্যি মনোমুগ্ধকর। প্রথম ট্রেন যাত্রায় আমার ভালো লেগেছে। ট্রেন সার্ভিসের কারণে কক্সবাজারে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়বে। এজন্য ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে হবে।’

আবদুল গফুর নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আমার বাড়ি কক্সবাজার সদরে। প্রথম বারের মতো কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি ট্রেন সার্ভিস চালু হওয়ার কারণে আমি এ ট্রেনে চড়ে ঢাকায় যাচ্ছি। আবার ট্রেনে করে কক্সবাজার আসবো। ট্রেন ভ্রমণ আমার ভালো লাগছে। আমরা কখনও ভাবিনি কক্সবাজার থেকে ট্রেনে করে ঢাকায় যেতে পারবো।’

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) তারেক মোহাম্মদ ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৫টি বগিতে ৭৮০ জন যাত্রী নিয়ে কক্সবাজার থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চারটি বগি বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এক হাজার ২০ জন যাত্রী নিয়ে কক্সবাজার থেকে প্রথম বাণিজ্যিক ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কোনও ধরনের সমস্যা হয়নি।’

খাবারের মান নিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক জন যাত্রীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। গরম-ঠান্ডার কারণে প্রথম দিকের খাবার কিছুটা নষ্ট হলেও শেষেরগুলো যাত্রীরা ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন।’

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার রতন কুমার চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে মোট ১৫টি বগিতে যাত্রী থাকবে। এতে ৭৮০ জন যাত্রী পরিবহনের সুযোগ আছে। এর মধ্যে একটি এসি এবং একটি নন-এসি বগি মিলে মোট ১১৫টি আসন থাকবে চট্টগ্রামের যাত্রীদের জন্য। এ দুই বগির মধ্যে এসি বগিতে আসন থাকবে ৫৫টি এবং নন-এসিতে আসন থাকবে ৬০টি।’

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights