আজ ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ও ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ এবং ১৬ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

রংপুর মেডিকেলে ভোগান্তির শিকার রোগী ও স্বজনরা

  • In সারাবাংলা
  • পোস্ট টাইমঃ ৩০ নভেম্বর ২০২৩ @ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ ও লাস্ট আপডেটঃ ৩০ নভেম্বর ২০২৩@১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
রংপুর মেডিকেলে ভোগান্তির শিকার রোগী ও স্বজনরা

।।রংপুর ব্যুরো।।

চিকিৎসা সেবায় বাংলাদেশের অন্যতম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দায়িত্বের সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছে বৃহত্তম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি। একারনে রংপুর বিভাগ ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে রোগী নিয়ে আসে হাসপাতালে। কিন্তু কয়েক বছর থেকে দূর্নীতি অনিয়ম ও হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবার মান অপরিছন্নতা এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের কারনে চিকিৎসা সেবার মান মুখ থুবড়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে রোগী ও স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) সরেজমিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে রোগী ও স্বজনরা জানান, দুনীতি অনিয়মের হাসপাতালের রন্দে রন্দে। হাসপাতালের গেটে ঢোকার আগে গুনতে হয় টাকা। রোগীকে ভর্তি করার আগে ঘিরে ফেলে দালাল চক্র, ভর্তি হয়ে টলিতে করে ওয়ার্ডের ভিতরে রোগী নিয়ে এলে সেখানেও গুনতে হয় টাকা। ভর্তি রোগীকে ডাক্তার দেখতে না এসে পাঠানো হয় সহকারী সেবিকাদের কাছে।

স্বজনরা আরো জননান, টাকা নেয়ার নিয়ম না থাকলেও সরকারি স্যালাইন পুশ করিয়ে নিচ্ছে এক হাজার টাকা। যদিও স্যালাইনের গায়ে লেখা ক্রয়-বিক্রয় দন্ডনীয় অপরাধ। হাসপাতাল থেকে শুধু গ্যাসের ঔষধ পাওয়া যায় বাকি ওষুধ কিনতে হয় বাহির থেকে। হয়রানির শিকার থেকে রেহাই পাচ্ছে না কেউ।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আাসা মোহসিনা ও তাসলিমা আখতার জানান,আমরা ভর্তি হওয়ার পর টলিতে করে বেডে নিয়ে আসেছে সেখানেও টাকা নিচ্ছে। বেড না থাকায় ফ্লোরে শোয়ানো হয়েছে। পরে সরকারি স্যালাইন একটি রোগীর শরীরে দিয়ে এক হাজার টাকা নিয়েছে কিন্তু স্যালাইনের গায়ে লেখা ক্রয় বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ। পরে আমরা একই স্যালাইন দোকান থেকে কিনে এনেছি মাত্র ৬৫ টাকা দিয়ে। অনেক সময় ডাক্তারকে ডাকলে সাড়া দিচ্ছে না ডাক্তার। অপেক্ষায় থাকতে হয় ডাক্তারের দরজায়। রোগীকে নিয়ে সব সময় শঙ্কায় থাকেন স্বজনরা।

রোগীর স্বজনরা আরো জানান, সরকারি মেডিকেলে বেড ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। বাহির থেকে ওষুধসহ সবকিছুই কিনে আনতে হয়। অসহায় ও গরীব পরিবারের টাকা না থাকায় পাচ্ছে না সু চিকিৎসা। ওষুধ কেনার সামর্থ্য না থাকায় মেডিকেলের বেডেই দিতে হচ্ছে অনেকের জীবন।

তারা আরও জানান, সরকারিভাবে মনি টরিং না থাকার কারনে হয়রানির শিকার হতে হয় রোগী ও তার স্বজনদের। সেই সাথে ময়লার স্তুপ অপরিছন্নতার কারনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন রোগীর সাথে স্বজনরাও।
২০২৩ সালের শুরুর দিকে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক তার নিজের মা-কে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসে হয়রানির শিকার হওয়া সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সে সময় ১১ জন কর্মচারীকে বহিষ্কার করা হলেও অনিয়ম আর হয়রানির শিকার থেমে নেই। মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে এসে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে ফিরছেন বাড়িতে।

দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবার আলী জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিন্ডিকেট ভাংতে হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে। কাউকে ছাড় দেয়া চলবে না। নিয়মিতভাবে সরকারী মনিটরিং করা হলে দালালদের দৌরাত্ম থাকবে না। আর ডাক্তাররা যদি রোগীর সেবায় আরো তৎপরতা বাড়ায় তাহলে কেউ কোন অভিযোগ করতে পারবে না বলে মনে করেন তিনি।

এবিষয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ আ.ম.আখতারুজ্জামান বলেন, ডাক্তারের মা-কে ভর্তি করাতে এসে একটু সমস্যা হয়েছিলো। বর্তমানে আমাদের আর কোন সমস্যা নেই। আমাদের ডাক্তার নার্সরা সময় রোগীদের সেবা করে চলছেন। কারো সাথে কেউ কোন ধরনের অবৈধ লেনদেন যেন না করে সে বিষয়ে আমরা সতর্ক করি।

নিউজ শেয়ারঃ

আরও সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

আলোচিত সংবাদ

নিউজ শেয়ারঃ
শিরোনামঃ
Verified by MonsterInsights