আইয়ুব আলী
নীলফামারী প্রতিনিধি।।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে ফুটপাথ থেকে দোকানিদের উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে পৌরসভা কার্যালয় ঘেরাও করেছে দোকানিরা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) দোকানে তালা দিয়ে পৌরসভা কার্যালয় ঘেরাও করেন তারা। তিন ঘন্টা পর শহরের স্থানীয় ব্যক্তি ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় খুলে দেওয়া হয় দোকানপাট।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেশ কয়েকদিন থেকে সৈয়দপুর পৌরসভা এলাকায় ফুটপাথ থেকে অভিযান চলছে। সকাল ১০ টার দিকে শহরকে যানজটমুক্ত করতে প্রধান রাস্তা শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ শুরু করা হয়। ওইসব দোকানপাট গুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এর মালামাল জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয় সৈয়দপর পৌরসভায়ে। এ সময় শহরের অধিকাংশ দোকানপাটই বন্ধ ছিল। বাজারে উচ্ছেদ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা দলে দলে ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। তারা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে নিজেদের দোকানে তালা ঝুলিয়ে মিছিল করতে করতে এক কিলোমিটার দুরে পৌর ভবনে গিয়ে জমায়েত হন। বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা পৌরসভা ঘেরাও করে বিভিন্ন রকম শ্লোগান দিতে থাকেন।
দোকানিরা বলেন, পৌর মেয়র আমাদের পেটে লাথি মেরেছেন। যদিও ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য পৌরসভা দিনে ১০০ টাকা টোল নেয়। আমরা অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করি। যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চলে। আমার দোকান থেকে সব মালামাল নিয়ে গেছে পৌরসভায়। দোকানটিও ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
তারা আরও বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে গরীবের দোকান উচ্ছেদ এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। এমনটি করা হলে আরও বেশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
এ পরিস্থিতিতে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান ও সৈয়দপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সাখাওয়াৎ হোসেন খোকন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
সাখাওয়াৎ হোসেন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্থ্য করে বলেন, আমি আছি আপনাদের পাশে। যতদিন পৌরসভায় হকার্স মার্কেট হবে না ততদিন আপনারা যে যেখানে আছেন সেখানেই ব্যবসা করবেন। উচ্ছেদ বন্ধ রাখতে সাখাওয়াৎ হোসেন খোকন পৌর মেয়রের প্রতিও অনুরোধ জানান।
এ সময় সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সকলকে শান্ত থাকতে আহবান জানান।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বলেন, সৈয়দপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা। এখানে আকাশ, রেল ও সড়ক পথে সব রকম যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়াও সৈয়দপুর হচ্ছে বানিজ্যিক ও শিক্ষার শহর। এমন একটি শহরের ফুটপাত অবৈধভাবে দখল হয়ে যাবে তা কোনভাবেই কাম্য নয়। আমরা পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কার্যক্রম শুরু করেছি যা অব্যাহত থাকবে।





















